শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে উদাসীন রাজ্য সরকার, অবস্থান বিক্ষোভ জন বার্লার

172

কৌশিক শীল, বানারহাট: ভিনরাজ্যে আটকে পড়া শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে রাজ্য সরকার কোনও তত্পরতা দেখাচ্ছে না। এই অভিযোগ তুলে রাস্তায় বসেই অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করলেন আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ জন বারলা। শুক্রবার দুপুরে তিনি লক্ষ্মীপাড়া চা বাগানের নিজের বাসভবন থেকে রওনা হন বানারহাটের দিকে। বানারহাট-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে গিয়ে প্রধানের সঙ্গে কথা বলার পর সেখানে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন করার পরিকল্পনা ছিল সাংসদের। কিন্তু বাগান থেকে বের হবার মুখেই পুলিশ প্রশাসন বাধা দিলে তিনি রাস্তায় বসেই অবস্থান শুরু করেন। রাস্তাতেই রবীন্দ্রনাথের ছবিতে মালা ও পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করেন তিনি।

এদিন সাংসদ জন বারলা বলেন, আমি একজন নির্বাচিত জন প্রতিনিধি। এই দুর্যোগের দিনে আমি সাধারণ অসহায় মানুষজনের কাছে যেতে চাইছি, কিন্তু পুলিশ আমাকে গত ২৮ দিন ধরে ঘরবন্দী করে রেখেছে। আমাকে বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। আমার অপরাধ কি তা আমি জানতে চাই। দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাজ্যের শ্রমিকরা আটকে রয়েছেন। বাকী সমস্ত রাজ্য তাদের শ্রমিকদের ঘরে ফিরিয়ে নেবার উদ্যোগ নিলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার কিছুই করছে না। ফলে শ্রমিকরা বাড়ি ফিরতে পারছেন না। ভিন রাজ্যে কর্মহীন অবস্থায় চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন কয়েক হাজার শ্রমিক। রাজ্য সরকার লোক দেখানো একটি পোর্টাল খুলে একজন নোডাল অফিসার নিয়োগ করে কয়েকটি ফোন নম্বর দিলেও কোনো নম্বরেই ফোন লাগছে না। আমার কাছে প্রতিদিন কয়েকশত শ্রমিকের ফোন আসছে। তাদের জন্য কিছু করতে পারছি না। শ্রমিকদের ফেরাতে সরকারী ভাবে কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তা জানতে পরপর দুবার মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু কোনো জবাব পাই নি। শাসক দলের বিধায়ক সহ ছোটখাটো নেতারা অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন অথচ আমি সাংসদ হয়েও ঘরের বাইরে পা রাখলেই লক ডাউনের আইন ভঙ্গ হচ্ছে। এর পেছনে কি কারণ আছে তা বাংলার মানুষ জানেন।

- Advertisement -

এর পাশাপাশি এদিন তিনি তিনমাসের জন্য বিদ্যুতের বিল মুকুব, সকলের জন্য রেশন সুনিশ্চিত করা, বেসরকারী স্কুলগুলির তিন মাসের বেতন মুকুব, কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলিতে থাকার উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরী সহ বিভিন্ন বিষয়ে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ দাবী করেন। এদিন লক্ষ্মীপাড়া চা বাগানে সাংসদের অবস্থান মঞ্চে উপস্থিত হন জেলা পুলিশের অপরাধ দমন শাখার ডিএসপি বিক্রমজিত্ লামা, বানারহাট থানার আইসি সমীর দেওসা সহ বিরাট পুলিশ বাহিনী। তবে পুলিশ প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায় নি।