রায়গঞ্জ মেডিকেলে দ্রুত করোনা পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ রাজ্যের

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: উত্তর দিনাজপুর জেলায় তিনজন করোনা পজিটিভ ধরা পড়ার পর নড়েচড়ে বসল জেলা প্রশাসন। উত্তর দিনাজপুর জেলার বিহার সীমানা থেকে শুরু করে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলিতে নাকা চেকিং শুরু করেছে পুলিশ।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে বসানো হল ট্রু নেক কোভিড-১৯ যন্ত্র। এরপর থেকে করোনা পরীক্ষার জন্য লালার নমুনা উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও মালদা মেডিকেল কলেজে পাঠাতে হবে না। এদিন সকাল থেকেই প্যাথলজি বিভাগের চিকিৎসকরা সোয়াব টেস্টের যন্ত্র বসাতে শুরু করেন।

- Advertisement -

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সহকারি অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগে অবস্থিত লন্ড্রিরুম ফাঁকা করে যন্ত্র বসানোর পাশাপাশি পরীক্ষার কিট রাখা হয়েছে। দুদিনের মধ্যেই সোয়াব টেস্ট চালু হয়ে যাবে বলে জানান তিনি। রবিবার হলেও এদিন রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ দিলীপকুমার পাল ও সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় মেডিকেল কলেজের নয় তলায় অবস্থিত প্যাথলজি ল্যাব পরিদর্শন করেন। করোনা মোকাবিলায় মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে দফায় দফায় মিটিং করেন রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল দিলীপকুমার পাল।

সংশ্লিষ্ট দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে করোনার পরীক্ষা কেন চালু করা যায়নি, সেই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছেন রাজ্য স্বাস্থ্য ভবন। পরীক্ষার জন্য রায়গঞ্জ মেডিকেলে পরিকাঠামোগত কী কী ঘাটতি রয়েছে, সে সমস্ত খোঁজখবর ফোন মারফত নেন রাজ্যের অন্যতম বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অভিজিৎ চৌধুরী। দ্রুত যাতে করোনা পরীক্ষা চালু করা যায় সে ব্যাপারে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন রাজ্য স্বাস্থ্য ভবন। মেডিকেল কলেজে আরও কোন যন্ত্রপাতির প্রয়োজন রয়েছে কিনা সেই সমস্ত বিষয় রাজ্য স্বাস্থ্য ভবনকে জানাতে বলেছে গ্লোবাল অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য অভিজিৎ চৌধুরী।

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধান বলেন, “উত্তর দিনাজপুর জেলায় তেমন কোনও আতঙ্কের কারণ নেই। জেলায় তিনজন পজিটিভ রোগী পাওয়া গেলেও তাঁরা সুস্থ রয়েছেন।” স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা বলেন, “কেবলমাত্র আতঙ্কিত হয়ে কিছু মানুষ অসুস্থ রোগীদের পাড়া ছাড়া করার চেষ্টা করছে। কুসংস্কারের জন্য এটা হচ্ছে। এই ধরনের ঘটনা যাতে কেউনা ঘটান সতর্ক থাকতে হবে। হাঁচি, কাশি এবং করমর্দন ছাড়া এই রোগ ছড়ানোর কোন ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তাই অযথা আতঙ্কিত হবেন না। ‌চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করবেন না। করোনা হাসপাতাল পাড়ার মধ্যে হলে ওটা যে হানাবাড়ি হয়ে গেল এই ধরনের অপপ্রচারকে বন্ধ করতে হবে। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, “রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে দ্রুত করোনা পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”