চা বাগানে ৫০ শতাংশ শ্রমিককে কাজে লাগানোর অনুমতি রাজ্যের

414

শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা: ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে চা বাগানে ৫০ শতাংশ শ্রমিককে কাজে লাগানোর অনুমতি দিল রাজ্য সরকার।

সোমবার মুখ্যসচিব রাজীব সিনহার স্বাক্ষরিত এই সংক্রান্ত নির্দেশিকাটি জারি হয়। একেকটি বাগানের মোট নিয়মিত শ্রমশক্তির মধ্যে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শ্রমিককে এখন থেকে কাঁচা পাতা তোলা সহ উৎপাদনের কাজে লাগানো যেতে পারে বলে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে। তবে সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব মেনে যাতে কাজ হয় তা সুনিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

- Advertisement -

এই বিষয়টির যাবতীয় দায়িত্ব বাগানগুলির পরিচালকদের ওপর বর্তাবে বলে সরকারি নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্যের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে চা মহল। চা মালিকদের অন্যতম সংগঠন টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার (টাই) ডুয়ার্স শাখার সম্পাদক রামঅবতার শর্মা বলেন, এমনিতেই লকডাউনের জেরে এবার চায়ের ভরা মরসুমে ফার্স্ট ফ্লাশের ৮০ শতাংশ উৎপাদনই মার খেয়েছে। আর দিন কয়েকের মধ্যেই শুরু হতে চলেছে সেকেন্ড ফার্স্ট ফ্লাশের উৎপাদন। তার আগে যাতে চাহিদামত শ্রমিককে কাজে লাগানো যায় সেই আর্জি রাজ্য সরকারের কাছে রাখা হয়েছিল। তাতে সাড়া মেলায় আমরা খুশি।

চা বাগানে ৫০ শতাংশ শ্রমিককে কাজে লাগানোর অনুমতি রাজ্যের| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

আরেকটি সংগঠন ডিবিআইটিএ-র সম্পাদক সঞ্জয় বাগচি বলেন, ৫০ শতাংশ শ্রমিক ব্যবহারের অনুমতি মেলায় বিপর্যয়ের শিকার চা শিল্প কিছুটা হলেও উৎপাদনের দিক থেকে উপকৃত হবে। জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চাষী সমিতির সম্পাদক বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকেই সেকেন্ড ফ্লাশের উৎপাদন চালু হয়ে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিক সংখ্যা বাড়ানোর আশু প্রযোজনীয়তা দেখা দিয়েছিল। সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। আশা করছি ১৫ জুনের পর থেকে ১০০ শতাংশ শ্রমিককে কাজে লাগানোর অনুমতিও রাজ্য দিয়ে দেবে।

ডান-বাম সবকটি ট্রেড ইউনিয়নও আরও বেশী সংখ্যক শ্রমিক কাজ পাবেন এই যুক্তিতে রাজ্যের সিদ্ধান্তকে স্বাগতই জানিয়েছে। চা বাগান তণমূল কংগ্রেস মজদুর ইউনিয়ন এর সভাপতি মোহন শর্মা বলেন, আমরা আগেই বলেছিলাম মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই নেবে। করোনা সংক্রান্ত যাবতীয় পদক্ষেপের মাধ্যমে চা বাগানগুলি যে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থার মধ্যে ফিরে আসবে সে ব্যাপারে আমরা পূর্ণ আশাবাদী।

বিজেপি প্রভাবিত ভারতীয় টি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক সন্তোষ হাতি বলেন, সিদ্ধান্ত ঠিকই আছে। বেশী সংখ্যক শ্রমিক কাজ পাবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই যাতে কাজ হয়, তার ওপর বাগানগুলিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। চা শ্রমিকদের যৌথ সংগঠন জয়েন্ট ফোরামের অন্যতম আহ্বায়ক ও সিটু নেতা জিয়াউল আলম বলেন, পরিযায়ী শ্রমিকরা তাঁদের বাগানের বাড়িতে ফিরে আসছে। তাঁদের অনেকেরই বাগানের খাতায় নামও রয়েছে। ওই সমস্ত শ্রমিকদের যাতে কোয়ারান্টিন এর মেয়াদ ফুরোনোর আগে কাজে না নেওয়া হয়, তা প্রশাসনকে দেখতে হবে। কোয়ারান্টিন কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামোও ঠিকঠাক থাকা বাঞ্চনীয়। ৫০ শতাংশ শ্রমিককে কিভাবে স্বাস্থ্য বিধি মেনে কাজ করানো হবে তাঁর ওপর একটি বিধি বা কোড তৈরিতে প্রশাসন ও বাগান পরিচালকরা যাতে এগিয়ে আসে সেই দাবি জানাচ্ছি।