রাস্তা সংস্কারের দাবিতে রাজ্য সড়ক অবরোধ স্থানীয়দের

394

হরিশ্চন্দ্রপুর: বেহাল রাস্তা সংস্কারের দাবিতে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাল স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার দুপুরে মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার কুশিধা গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার ঘটনা। এদিন দুপুর বারোটা থেকে দুপুর দু’টা পর্যন্ত কুশিধা-তুলসিহাটা রাজ্যসড়কের জয়বাংলা মোড়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। বিক্ষোভের জেরে রাজ্য সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় নিত্যযাত্রীদের। অবশেষে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তথা জেলা পরিষদ সদস্যের আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা। এরপর ওই রুটে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

উল্লেখ্য, এক দশক ধরে পাকা রাস্তার দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। একাধিকবার রাস্তার পরিমাপও হয়েছে। প্রতি নির্বাচনের আগে রাস্তা পাকা হবে বলে জনপ্রতিনিধিরা আশ্বাস দেন বলে অভিযোগ। তারপরেও সমস্যা মেটেনি। মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুরের বিহার সীমান্ত লাগোয়া ওই রাস্তা পাকা করার দাবিতে এবার আন্দোলনে নামলেন ভগবানপুরের বাসিন্দারা।

- Advertisement -

এদিন দুপুর থেকেই প্রথমে গ্রামীণ রাস্তায় জলকাদায় দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখানো শুরু হয়। পরে সংযোগকারী রাজ্য সড়কে এসে অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন বাসিন্দারা। ঘন্টা দুয়েক বিক্ষোভের পর জেলা পরিষদের স্থানীয় সদস্য সন্তোষ চৌধুরীর আশ্বাসে অবরোধ তুললে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে দ্রুত সমস্যা না মিটলে ফের আন্দোলনে নামা হবে বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন। এমনকি আগামী কোনও নির্বাচনেও তাঁরা অংশ নেবেন না বলে হুমকি দিয়েছেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, “কুশিধা গ্রামপঞ্চায়েতের জয়বাংলা মোড় থেকে ভগবানপুর পর্যন্ত দুই কিমি রাস্তা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কঙ্কালসার হয়ে রয়েছে। যে রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমগ্র রাস্তাটি খানাখন্দ ও এক হাঁটু কাদাজল জমে গিয়ে পথচলা দায় হয়ে পড়েছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রশাসনকে বার বার আবেদন জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। তাই বাধ্য পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। তাতেও কাজ না হলে আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে এলাকাবাসী।

ভগবানপুরের বাসিন্দা রেজাউল করিম, নার্গিস বিবিরা জানান, ওই রাস্তাটির উপর দিয়ে প্রতিদিন বিজোট, রাজোল, ভগবানপুর , ডাখোল, হুসেনপুর সহ ১৫-২০ টি গ্রামের মানুষের যাতায়াত রয়েছে। এমনকি এই রাস্তাটি যাতায়াতের একমাত্র পথ। অথচ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ওই দুই কিমি রাস্তা প্রশাসনিক উদাসীনতায় বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বেহাল রাস্তার কারণে ওই এলাকায় নিশ্চয়যান বা অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে পারে না। মুমূর্ষু রোগী বা গর্ভবতী মহিলাদের হাসপাতাল নিয়ে যেতে বাঁশের খাটিয়া করে নিয়ে যেতে হয়। বাজার, স্কুল, হাসপাতাল যেতে গেলেও পড়ুয়ারা বহু সমস্যায় পড়েন।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, বৃষ্টিতে এখন রাস্তার যা অবস্থা হয়েছে তা চষা খেতকেও হার মানায়। রাস্তায় বড়বড় গর্তে জল জমে তা ডোবায় পরিণত হয়েছে। অথচ ওই রাস্তা দিয়ে পঞ্চায়েত থেকে ব্লক, হাসপাতাল, থানা, বাজার সর্বত্রই বাসিন্দাদের যাতায়াত করতে হয়। আর প্রতিবছর বর্ষায় কয়েকমাস জীবন একেবারে দুর্বিসহ হয়ে ওঠে।

জেলা পরিষদ সদস্য সন্তোষ চৌধুরী বলেন, রাস্তাটি ভীষণ জরুরি। নির্বাচনে জয়ী হয়েই রাস্তাটি পাকা করতে উদ্যোগী হই। বরাদ্দের জন্য উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের হাতে প্রকল্প তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। লকডাউনের জন্য কাজ কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। শীঘ্রই বরাদ্দ মিলবে আশা করছি। তবে, চাঁচল মহকুমার মহকুমা শাসক সব্যসাচী রায় জানান, “দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।”