আগাছায় ঢেকেছে ভিত্তিপ্রস্তর, ছয় বছরেও মহারাজার মূর্তি বসানো হয়নি

198

শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার : ২০১৪ সালে কোচবিহার স্টেডিয়ামে মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্রনারায়ণ ভূপবাহাদুরের মূর্তি স্থাপনের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই কাজ সম্পন্ন হয়নি। ৬ বছর পার হতে চললেও প্রস্তাবিত স্থানে মহারাজার মূর্তি না বসায় সংশ্লিষ্ট জেলা ক্রীড়া সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অবশ্য কোচবিহারে ক্রীড়ার প্রসারে জগদ্দীপেন্দ্রনারায়ণের ভূমিকার কথা মাথায় রেখে যত দ্রুত সম্ভব তাঁর মূর্তি বসানো হবে বলে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্যতম কর্মকর্তা সুব্রত দত্ত বলেন, কয়েকবছর আগে মহারাজার মূর্তি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তারপর আর্থিক সমস্যা সহ বেশ কিছু কারণে সেই কাজটি করা সম্ভব হয়নি। আমরা চেষ্টা করব যত দ্রুত সম্ভব কাজটি সম্পন্ন করা হয়।

ইতিহাসবিদরা জানিয়েছেন, কোচবিহারে ক্রীড়ার প্রসারের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্রনারায়ণ। তাঁর সময়কালে জেলায় খেলাধুলোর অনেক উন্নতি হয়ছিল। মহারাজা নিজে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলতেন। বাংলা ক্রিকেট দলের অধিনায়কও ছিলেন তিনি। তাঁরই পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৫০ সালে কোচবিহারে জেলা ক্রীড়া সংস্থা গড়ে ওঠে। ক্রীড়াক্ষেত্রে তাঁর অবদানের কথা মাথায় রেখে রাজবাড়ি সংলগ্ন কোচবিহার স্টেডিয়ামে মহারাজার মূর্তি বসাতে উদ্যোগী হয় জেলা ক্রীড়া সংস্থা। ২০১৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর স্টেডিয়াম চত্বরের একটি উদ্যানের মাঝে ঘটা করে এই মূর্তি স্থাপনের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। সেটির উন্মোচন করেছিলেন তত্কালীন বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন। বর্তমানে সেই ভিত্তিপ্রস্তরটি আগাছায় ছেয়েছে। মূর্তি তৈরির জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ছয় বছর পার হতে চললেও এখনও পর্যন্ত সেখানে মূর্তি তৈরির কাজ শুরু না হওয়ায় জেলা ক্রীড়া সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মহারাজাকে সম্মান জানাতে দ্রুত মূর্তি স্থাপনের দাবি উঠেছে। ইতিহাসবিদ তথা কোচবিহারের প্রবীণ বাসিন্দা নৃপেন্দ্রনাথ পাল বলেন, মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্রনারায়ণ ভূপবাহাদুরের অবদানের কথা মাথায় রেখে স্টেডিয়ামে তাঁর মূর্তি বসানো প্রয়োজন। জেলা ক্রীড়া সংস্থা সেই বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে এতদিন বাদেও কেন কাজটি হয়নি তা জানি না। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হোক সেটাই চাই। কনসর্টিয়াম অফ কোচ রয়্যাল ফ্যামিলির সম্পাদক কুমার সুপ্রিয়নারায়ণ বলেন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর ছয় বছর কাটতে চললেও এখনও পর্যন্ত মূর্তিটি স্থাপন করা হয়নি। এটি উদাসীনতার পরিচয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাজটি শেষ করা উচিত।

- Advertisement -