শেয়ার বাজার নিয়ে ক্রমশ আশার পারদ চড়ছে

384

কিশলয় মণ্ডল: অর্থনীতি নিয়ে গভীর আশঙ্কার মাঝেই বিগত সপ্তাহে বড়সড়ো উত্থানের সাক্ষী থাকল ভারতীয় শেয়ার বাজার। চারটি ট্রেডিং সেশনেই সেনসেক্স ২৩৯০ পয়েন্ট বেড়ে ৩৩,৭১৭ পয়েন্টে পৌঁছেছে। ৪ সপ্তাহ আগে এই সেনসেক্স নেমে গিয়েছিল ২৬ হাজারেরও নীচে। গত সপ্তাহে নিফটিও ৭০৫ পয়েন্ট বেড়ে ৯৮৫৯ পয়েন্টে পৌঁছেছে। পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও এত বড় অঙ্কের উত্থান অনেকটাই অপ্রত্যাশিত। তাই এর স্থায়িত্ব নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। আগামী কয়েকদিনে ফের বড় অঙ্কের সংশোধন হতে পারে শেয়ারসূচক সেনসেক্স ও নিফটির। সেনসেক্সের পরবর্তী রেজিস্ট্যান্স লেভেল ৩৪,২০০ এবং সাপোর্ট লেভেল ৩০,০০০। আগামী সপ্তাহে এই গণ্ডির মধ্যেই ঘোরাফেরা করবে সেনসেক্স।

কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বিতীয় দফার ত্রাণ প্যাকেজ নিয়ে জল্পনা চললেও কবে তা পাওয়া যাবে এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি সংস্থার সুরাহার জন্য পদক্ষেপ করতে পারে কেন্দ্র। এই ত্রাণ প্যাকেজের আশায় চাঙ্গা হয়েছে শেয়ার বাজার। রেড জোন বাদে দেশের অন্যান্য জায়গায়  আর্থিক কর্মকাণ্ড শুরু হওয়া সেই উত্থানে মদত দিয়েছে। মিউচুয়াল ফান্ড শিল্পের জন্য রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার ৫০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজও শেয়ার বাজারকে বাড়তি অক্সিজেন দিয়েছে। সম্প্রতি ৬টি ঋণনির্ভর ফান্ড বন্ধ করেছে ফ্র‌্যাঙ্কলিন টেম্পলটন ইন্ডিয়া। বিপদ আঁচ করে শীর্ষ ব্যাংক ফান্ড শিল্পের জন্য বিশেষ ঋণ প্রকল্প চালু করেছে। এর ফলে ফান্ডের হাতে নগদের জোগান বাড়বে। যা শেয়ার বাজারের উত্থানে প্রভাব ফেলেছে। সবমিলিয়ে শেয়ার বাজার  নিয়ে ক্রমশ আশার পারদ চড়ছে।

- Advertisement -

করোনা সংক্রমণের থাবায় কাবু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ ইউরোপের একাধিক দেশ। সারা বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ২.৫ লক্ষ ছুঁইছুঁই। তবে সংক্রমণের হার কমায় বিভিন্ন দেশে লকডাউন শিথিল করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে শুরু হচ্ছে আর্থিক কর্মকাণ্ড। এর জেরে ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে বেশ কয়েকটি দেশের শেয়ার বাজার। তার প্রভাবও পড়েছে ভারতে। গত সপ্তাহে মার্কিন ডলারের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে টাকার দাম। ফের এক ডলারের বিনিময় মূল্য নেমে এসেছে ৭৬ টাকার নীচে। অনেকগুলি ইতিবাচক বিষয় থাকলেও এখনই করোনার প্রভাব চলে যাবে না। তাই আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। পাল্লা দিয়ে বাড়বে ঘুরে দাঁড়ানোর সময়ও। এই উত্থান নিয়ে তাই আশঙ্কা থাকছেই। লগ্নিকারীদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। সঠিক সময়ে লগ্নি এবং নিয়মিত নজরদারিও চালাতে হবে লগ্নিকারীদের।