কোটা ফেরত ছাত্রীরা আনন্দাশ্রু নিয়ে বাড়ি ফিরলেন

সমীর দাস, হাসিমারা: এ যেন যুদ্ধ জয় করে বাড়ি ফেরা। কারও চোখ দিয়ে বয়ে চলেছে আনন্দাশ্রুর ধারা। কেউ আবার জড়িয়ে ধরছেন পরিজনদের। সোমবার এমনই এক বিরল দৃশ‍্যের সাক্ষী হয়ে থাকল জলদাপাড়া জাতীয় উদ‍্যানের মালঙ্গি বন বাংলো।

এতকাল আনন্দ আর হইহুল্লোড় দেখে অভ‍্যস্ত ছিল ভ্রমণ পিপাসুদের অতি প্রিয় বনবাংলোটি। পাখির কুঞ্জন আর ঝিঁঝিঁ পোকার একটানা ডাক শুনে দিন কাটত বনবাংলোর কর্মীদের। শনিবার দুপুরের পর থেকেই পাল্টে যায় পরিস্থিতি। কোটা ফেরত ১৫ ছাত্রী সহ পাঁচ জন মহিলা অভিভাবক ও একটি পাঁচ বছরের নাবালককে ওই বনবাংলোতে কোয়ারান্টিনে রাখার ব‍্যবস্থা করেছিল আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন।

- Advertisement -

কোটা থেকে ফেরার পর ওই ছাত্রী ও তাঁদের অভিভাবদের উৎকণ্ঠার মধ‍্যে দিয়ে সময় কাটাতে হয়। মাদারিহাটে স্থানীয় বাসিন্দাদের রোষের মুখে পড়ে জেলা প্রশাসন তড়িঘড়ি ছাত্রীদের একাংশকে হাসিমারার বায়ুসেনা ছাউনি সংলগ্ন মালঙ্গি বনবাংলোতে নিয়ে আসতে বাধ‍্য হয়। সেখানেও ৩৬ ঘন্টা উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগের মধ‍্যে কাটাতে হয় ছাত্রী ও অভিভাবকদের।

রবিবার রাতে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় কোয়ারান্টিনে থাকা ছাত্রী, অভিভাবক ও শিশুর করোনা সংক্রান্ত টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ। খবর ছড়িয়ে পড়তেই বনবাংলো চত্বরে আনন্দ ও খুশির অশ্রুধারা বইতে শুরু করে। কালচিনি ব্লক প্রশাসনের পক্ষে জানিয়ে দেওয়া হয় সোমবার ছাত্রী ও অভিভাবকরা বাড়ি ফিরতে পারবেন। কালচিনি, জয়গাঁ, ফালাকাটা, মাদারিহাট ও আলিপুরদুয়ার সদর থেকে অভিভাবকরা সোমবার মালঙ্গি বনবাংলোতে চলে আসেন।

কালচিনির ভিডিও ভূষণ শেরপা বনবাংলোতে এসে ছাত্রীদের অভিনন্দন জানান। এর পরেই ছাত্রীরা একে একে বাড়ি ফিরে যান। তবে বনবাংলোতে কনকর্মীরা তাদের আতিথেয়তায় কোন ত্রুটি রাখেননি, এছাড়াও হাসিমারা ফাঁড়ির পুলিশ কর্মীরা যেভাবে তাঁদের পাশে থেকেছেন তাতে তাঁরা মুগ্ধ বলে জানান ছাত্রীরা। কালচিনির বিডিও ভূষণ শেরপা বলেন, এতদিন উৎকণ্ঠার মধ‍্যে থেকে ছাত্রীরা বাড়ি ফিরেছেন এটা অত‍্যন্ত আনন্দের বিষয়। ছাত্রীরা যখন তাঁদের অভিভাবকদের কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা সেই দৃশ্য দেখে পুলিশকর্মী ও বনকর্মীদের চোখও ছলছল করে উঠল।