কোচিং ছেড়ে বাগানে কাজ করছে পড়ুয়ারা

275

নাগরাকাটা :  লকডাউনে কাজ হারিয়ে বাড়িতে ফিরে এসেছেন পরিযায়ীরা। এখানে নিয়মিত কাজ জুটছে না। অনেকে পুরোনো কর্মস্থলে ফিরে গেলেও অনেকে আবার বেকার হয়ে বাড়িতে বসে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সংসারের জোয়াল টানতে চা বাগানে কাজ করছে বসে থাকা পরিযায়ীদের স্কুলপড়ুয়া সন্তানরা। তারা মূলত একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রী। একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন চা বাগানের পড়ুয়াদের জন্য যে বিশেষ কোচিং চালু করেছে, তাতে প্রথম দিকে তারা হাজির থাকলেও এখন আর থাকছে না। কারণ সবাইকে কাজে বেরিয়ে যেতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে  স্কুল খুললে পড়াশোনায় তারা আর উত্সাহী হবে কি না তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষা মহল।

বানারহাটের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা লকডাউনের পর বাগানগুলিতে গিয়ে দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য কোচিংয়ে ব্যবস্থা করে। চ্যাংমারি, তোতাপাড়া, মোগলকাটা, দেবপাড়া সহ আরও কিছু বাগানে এই কোচিংয়ে প্রথমদিকে উঁচু ক্লাসের ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত উপস্থিত থাকলেও এখন বেশিরভাগই আর আসছে না। সংস্থার কর্ণধার ভিক্টর বসু বলেন, খোঁজখবর নিয়ে দেখি, ওরা সকালবেলা বাগানের কাজে চলে যাচ্ছে। ফিরছে বিকেলে। ফলে একাধিক বাগানে কোচিং শিবির এখন বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। কিছু স্কুল অনলাইনে পড়াশোনার ব্যবস্থা চালু রাখলেও সিংহভাগ পড়ুয়ার স্মার্ট ফোন না থাকায় তা  কাজে আসছে না। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির উদ্যোগে যতটুকু পড়াশোনা চলছে সেটাতেও এখন ভাটার টান। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষক-শিক্ষিকারাও। নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির সম্পাদক প্রসেনজিত্ রায় বলেন, করোনা সংকট যে সমাজের প্রান্তিকস্তরের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হতে চলেছে এই আশঙ্কা আমাদের ছিলই। বাস্তবে এখন সেটাই হচ্ছে। পরিস্থিতি শোধরাতে রাজ্য সরকারের উচিত শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে দেওয়া এবং  দ্রুত আগামী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের সূচি ঘোষণা করা। আয়কর দেন না এমন অভিভাবকদের অ্যাকাউন্টে মাসে অন্তত সাড়ে সাত হাজার টাকা দেওয়ার দাবি জানান তিনি। পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির আহ্বায়ক অঞ্জন দাস বলেন, দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ।  ফলে পড়াশোনার ক্ষেত্রে প্রাথমিক একটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। রাজ্য সরকার সমস্ত কিছু জানে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাজ্য সরকার যথাসময়ে পদক্ষেপ করবে। স্কুল খোলার পর পড়ুয়াদের খামতি পুষিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও কার্পণ্য রাখা হবে না বলে দাবি করেন তিনি।চা বাগানের মালিকপক্ষের অন্যতম সংগঠন ডিবিআইটিএর সম্পাদক সঞ্জয় বাগচি বলেন, বাগানে যাঁদের নিয়োগ করা হয় তাঁদের প্রত্যেকেই ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে। কোনও স্কুল পড়ুয়াকে নিয়োগ করা হয় না।

- Advertisement -