প্রশাসনের কর্মসূচি বন্ধ, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে

329
ছবি: গোপাল মণ্ডল

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : রাজ্যের নির্দেশে জেলা প্রশাসন আলিপুরদুয়ার জেলাজুড়ে জনসংযোগমূলক একাধিক কর্মসূচি নিয়েছিল। বিশেষ করে বন্ধ ও রুগ্ন চা বাগানের সাধারণ মানুষ ও প্রান্তিক এলাকার বাসিন্দাদের বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসবের মধ্যে আপনার বাগানে প্রশাসন, আপনার পঞ্চায়েতে প্রশাসন, আপনার দুয়ারে প্রশাসন, আন্তঃবাগান নকআউট ফুটবল প্রতিযোগিতা উল্লেখযোগ্য। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মসূচিগুলি বন্ধ থাকায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি পরিষেবা না পেয়ে বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ সমস্যায় পড়েছেন। আনলক-২ পর্যায়ে সরকারি সুবিধা না পেয়ে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এ বিষয়ে আলিপুরদুয়ারের জেলা শাসক সুরেন্দ্রকুমার মিনা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিবির করে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া যাচ্ছে না। তবে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস থেকে বাসিন্দাদের নানা সরকারি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, নিখিল নির্মল আলিপুরদুয়ারের জেলা শাসক থাকাকালীন জেলার রুগ্ন ও বন্ধ চা বাগানগুলিতে সরকারি নানা পরিষেবা পৌঁছে দিতে আপনার বাগানে প্রশাসন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। এই কর্মসূচিতে চা বাগানের শ্রমিকরা সংশ্লিষ্ট বাগানে শিবিরের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পেতেন। পাশাপাশি, এই শিবিরগুলির মাধ্যমে শ্রমিকরা জেলা প্রশাসনের কাছে তাঁদের বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ জানানোর সুযোগ পেতেন। এই ব্যবস্থায় নানা সমস্যা দ্রুত মেটানো সম্ভব হচ্ছিল বলে সরকারি আধিকারিকরাই জানিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীও জেলা প্রশাসনের এই কর্মসূচির প্রশংসা করেন। এরপরই চা বাগানের শ্রমিকদের সরকারি সুযোগসুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি জেলা প্রশাসন জেলার প্রান্তিক এলাকাগুলিতে জোর দেয়। আপনার পঞ্চায়েতে প্রশাসন চালু করা হয়। দুটি প্রকল্পেই সাধারণ মানুষ শিবিরে এসে জাতিগত শংসাপত্র, বিভিন্ন ধরনের ভাতা, জিরো ব্যালেন্সে অ্যাকাউন্ট খোলা, বাংলা আবাস যোজনার টাকা, ব্যাংক ঋণ সহ আরও অনেক সুবিধা পেতেন। বেশ কিছুদিন শিবির করে এই প্রকল্পগুলির সুবিধা দেওয়া হয়।

- Advertisement -

গত লোকসভা নির্বাচনে জেলায় বিজেপির কাছে শাসকদল তণমূল কংগ্রেসের কার্যত ভরাডুবি হয়। পরে খোদ মুখ্যমন্ত্রী জেলার চা বাগান সহ অন্য এলাকাগুলিতে প্রশাসনের জনসংযোগ আরও নিবিড় করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপরই জেলা প্রশাসন আরও কিছু কর্মসূচি হাতে নেয়। জেলার বিশেষ করে বন্ধ ও রুগ্ন চা বাগানে সরকারি সুবিধা সম্পর্কে সচেতন করতে প্রশাসন ফুটবলকে হাতিয়ার করে। যাতে খেলা চলাকালীন মাঠে যাওয়া চা বাগানের বাসিন্দারা সরকারি প্রকল্পগুলি সম্পর্কে জানতে পারেন তাই বাগান এলাকায় ফুটবল খেলা চলাকালীন মাঠের চারদিকে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের বিজ্ঞাপনে ভরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত হয়। কালচিনি ব্লককে দিয়ে আন্তঃবাগান নকআউট ফুটবল প্রতিযোগিতা শুরু হয়। পাশাপাশি, গত বছর মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গে এসে আমলাদের খাটিয়া কালচার শুরু করার পরামর্শ দেন। আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনও আপনার দুয়ারে প্রশাসন কর্মসূচি হাতে নেয়। এই কর্মসূচিতে প্রশাসনের আধিকারিকদের রুটিন করে বিভিন্ন গ্রামে যাওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়।  জেলা শাসক থেকে মহকুমা শাসক, বিডিও সহ ব্লক ও জেলা প্রশাসনের সমস্ত আধিকারিককে গ্রামে গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার নির্দেশ দেওয়া হয়। গ্রামে রাত কাটানোর পাশাপাশি বাসিন্দাদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে তাঁদের অভাব অভিযোগ শোনার কথাও বলা হয়েছিল। এই কর্মসূচি গোটা জেলায় ব্যাপক শোরগোল ফেলে দেয়। প্রশাসনের আধিকারিকদের নাগালে পেয়ে বাসিন্দারা তাঁদের কাছে নিজেদের নানা অভাব অভিযোগের কথা জানান। বর্তমানে এধরনের সমস্ত পরিষেবা বন্ধ হয়ে থাকায় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।

বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা তথা মাদারিহাটের বিধায়ক মনোজ টিগ্গা বলেন, প্রশাসন শ্রমিকদের ন্যূনতম র‌্যাশন দিতেও ব্যর্থ। সাধারণ মানুষ সরকারি সুযোগসুবিধা পাচ্ছে না। জেলা প্রশাসন জনসংযোগ কর্মসূচি নিলেও তা মানুষের কাজে আসেনি। লোকসভা ভোটের পর শাসকদলের নেতারা মানুষের কাছে যেতে পারছে না। তাই তারা প্রশাসনকে কাজে লাগাতে চাইছিল। কিন্তু মানুষ শাসকদলের এই চালাকি বুঝে গিয়েছে। আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের মেন্টর তথা তৃণমূল কংগ্রেসের চা বাগান মজদুর ইউনিয়নের রাজ্য সভাপতি মোহন শর্মা বলেন, জেলা প্রশাসন চা বাগান এলাকার বাসিন্দাদের সুবিধার জন্য প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছিল। প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দারাও ওই কর্মসূচিগুলিতে সুবিধা পেয়েছেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির জেরে সবই থমকে গিয়েছে। এই সুবিধা আগামীতে কী করে ফের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় সে বিষয়ে আমরা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব।