দিনহাটায় সুস্বাস্থ্য কিট সরবরাহ বন্ধ

প্রসেনজিৎ সাহা, দিনহাটা : হোম আইসোলেশনে থাকা কোভিড পজিটিভ রোগীদের ভরসা দিতে প্রাক্তন মহকুমা শাসক শেখ আনসার আহমেদ ১৫ অগাস্ট থেকে সুস্বাস্থ্য কিট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু দুর্গাপুজোর পর থেকেই হোম আইসোলেশনে থাকা রোগীদের এই কিট সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে তাঁরা চরম বিপাকে পড়েছেন। মৃদু উপসর্গযুক্ত রোগীরা কীভাবে থাকবেন, কী ওষুধ খাবেন, পথ্য কী ধরনের হবে এবং জরুরি প্রয়োজনে কোন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন- তার হদিস দিতেই মহকুমা শাসকের উদ্যোগে এই কিটের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এর জেরে মহকুমার বহু রোগী উপকৃত হয়েছেন। বর্তমানে সেই কিট দেওয়া বন্ধ থাকায় হোম আইসোলেশনে থাকা রোগীদের অনেকে সমস্যায় পড়েছেন। তাঁদের কথায়, আগে যাঁরা এই কিট পেয়েছেন তাঁদের কাছে শুনেছি, সেই কিট তাঁদের মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি সুস্থ হতেও অনেকটাই কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করেছিল।

রাজ্য সরকারের নির্দেশমতো কোভিডের মৃদু উপসর্গ থাকা রোগীদের হোম আইসোলেশনে রাখা হয়। হোম আইসোলেশনে থাকা রোগীদের স্বাস্থ্যের নিয়মিত খোঁজ নেন আশাকর্মী ও পুর স্বাস্থ্যকর্মীরা। কিন্তু এ সমস্ত রোগীর অনেকেরই পর্যাপ্ত ধারণা নেই পরিবারের বাকিরা যাতে ভালো থাকেন, সেজন্য তাঁদের কী কী করণীয়। পাশাপাশি দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য কী কী ওষুধ খেতে হবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কী কী খাবার খেতে হবে তা নিয়ে তাঁদের স্পষ্ট ধারণা নেই। আর সেকথা চিন্তা করেই প্রাক্তন মহকুমা শাসক শেখ আনসার আহমেদ এই কিট দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এই কিটের মধ্যে থাকত একটি পুস্তিকা। তাতে লেখা থাকে, করোনা রোগীদের কী করা উচিত আর কী করা উচিত নয়। আর ছিল ডায়েট চার্ট এবং বেশ কিছু সুরক্ষাবিধি। সেই বইয়ে পুরসভা ও ব্লকের জন্য পৃথক পৃথক চিকিৎসকের নম্বরও ছিল। রোগীরা ফোন করে তাঁদের কাছে পরামর্শ নিতে পারতেন। সেই কিটে দশ দিনের জন্য পাঁচরকমের দরকারি ওষুধও থাকত। রাজ্যে প্রথম এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সে সময় মহকুমা শাসকের এই উদ্যোগ যথেষ্ট প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

- Advertisement -

তবে কী কারণে হঠাৎ করে কিট সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেল তা নিয়ে কিছু জানা যায়নি। এ বিষয়ে দিনহাটা পুরসভার কোভিড কোঅর্ডিনেটর বাপি গোস্বামী বলেন, অগাস্ট মাস থেকে মহকুমা প্রশাসনের তরফে হোম আইসোলেশনে থাকা রোগীদের এই কিট দেওয়া শুরু হয়। পুরসভা এলাকায় হোম আইসোলেশনে থাকা রোগীদের জন্য কিট দেওয়া হত। এরপর তা পুর স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতেন। কিন্তু পুজোর পরে আমরা আর নতুন কিট পাইনি। মহকুমা প্রশাসন আবার কিট দিলে অবশ্যই রোগীদের কাছে তা পৌঁছে দেব। মহকুমা শাসক হিমাদ্রি সরকার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।