পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে উদ্বেগ সুপ্রিম কোর্টের

110

নয়াদিল্লি : করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে জেরবার দশা কেন্দ্রের। সংক্রমণ রুখতে বিভিন্ন রাজ্যে লকডাউন, আধা লকডাউন, নৈশ কার্ফিউ সহ নানা বিধিনিষেধ জারি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভিনরাজ্যে কর্মরত শ্রমিকদের জীবনজীবিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল দেশের শীর্ষ আদালত। কড়া বিধিনিষেধের জালে আটকে করোনা সংক্রমণের প্রথম পর্যায়ে কয়েক লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। কাজ হারিয়ে অনাহারে থেকে, ভিন রাজ্য থেকে বাড়ি ফিরতে গিয়ে বেঘোরে প্রাণ গিয়েছিল বহু শ্রমিকের। সেই পরিস্থিতি যাতে আবার তৈরি না হয়, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি কেন্দ্রকে সতর্কও করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

করোনাকালে পরিযায়ী শ্রমিকদের যে অবর্ণনীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তা বিবেচনা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করেছে বিচারপতি অশোক ভূষণ ও বিচারপতি এম আর শাহের বেঞ্চ। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য নেওয়া কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চেয়েছে শীর্ষ আদালত। বেঞ্চের প্রশ্ন, পরিযায়ী শ্রমিকদের হাতে কাজ নেই, টাকা নেই। এই অবস্থায় তাঁদের কীভাবে চলবে? কীভাবে বেঁচে বর্তে থাকবেন তাঁরা?

- Advertisement -

পরিযায়ী শ্রমিকদের খাদ্য, রেশন, নগদ অর্থ দেওয়া ও যাতায়াতের সুষ্ঠুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করে আইনজীবী প্রশান্ত ভষণের মাধ্যমে মামলা দায়ের হয়। সেই মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার ওই মন্তব্য করেন বিচারপতিরা।

সমাজকর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজ, হর্ষ মন্দার ও জগদীপ ছোকরের দায়ের করা আবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর লকডাউনের মাসগুলিতে পরিযায়ী শ্রমিকরা আতঙ্ক ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছিলেন। এইরকম অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়েও বহুজনকে চূড়ান্ত পুলিশি নিপীড়নের শিকার হতে হয়। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বেলাগাম হওয়ার পর নানা রাজ্যে লকডাউন শুরু হয়েছে। আংশিক বন্ধ হয়ে গিয়েছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। ফলে আবারও সেই বিভীষিকার দিনগুলি ফিরে এসেছে। এই কারণে পরিযায়ী শ্রমিকরা আতঙ্কিত। এর একটা সুরাহা হওয়া উচিত। আবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের পরিস্থিতি থেকে প্রশাসন শিক্ষা নেয়নি। তাদের সহানুভতিরও অভাব রয়েছে। রেশন কার্ড ছাড়া খাদ্য সুরক্ষা কর্মসূচির সুযোগ নিতে পারেন না কোনও গরিব নাগরিক। গত বার রেশন কার্ড নেই এমন ৮ কোটি পরিযায়ী শ্রমিককে আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্প-এর আওতায় র্যাশন হিসাবে শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছিল। এই প্রকল্পটি ফের চালু করার জন্য যাতে কেন্দ্রকে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয়, সেই আর্জিও জানানো হয়েছে।

সব শুনে দুই বিচারপতির বেঞ্চ সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতাকে এদিন বলেন, কাজ নেই, টাকা নেই, কীভাবে বাঁচবে শ্রমিকরা? অন্তত কিছু সময়ে জন্য হলেও শ্রমিকদের ভরণপোষণের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। মেহতার জবাবে অবশ্য আশার কথা শোনা যায়নি। বরং তিনি জানিয়েছেন গতবারের চেয়ে এবারের পরিস্থিতি বেশ আলাদা। গত বছর সব কিছু বন্ধ ছিল। এবার  পুরো লকডাউন কোথাও হচ্ছে না। কাজকর্ম যতটা সম্ভব চালু রেখে সংক্রমণ রুখতে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। এবার আর তাই পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজ হারিয়ে বাড়ি ফেরার মতো ঘটনা ঘটছে না। একইসঙ্গে তিনি বলেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রাথমিক সমস্যা মেটাতে কেবল কেন্দ্র নয়, রাজ্যগুলিরও দায়িত্ব আছে। রাজ্যগুলিকেও এ ব্যাপারে তত্পর হতে হবে।