কোভিড নিয়ে সচেতনতা প্রচারে নজর কাড়ছেন শিক্ষক দম্পতি

434

মেখলিগঞ্জ: দেশে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুরসভা, পুলিশ সহ স্বাস্থ্য কর্মীরা মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন মেখলিগঞ্জে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তরফেও চলছে প্রচার। এরইমাঝে কোভিড নিয়ে সচেতনতা প্রচারে নজর কাড়ছে মেখলিগঞ্জের শিক্ষক দম্পতির প্রচেষ্টা। মেখলিগঞ্জ পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তন্ময় সেনগুপ্ত মেখলিগঞ্জ ব্লকের উপনচৌকি উচ্চ বিদ্যালয়ের(উচ্চ মাধ্যমিক) শিক্ষক। তাঁর স্ত্রী মধুমিতা সরকার সেনগুপ্ত মেখলিগঞ্জ ইন্দিরা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।

কোভিড পরিস্থিতিতে মানুষকে সচেতন করতে ভূমিকা নিচ্ছেন তাঁরা। চলতি বছরের এপ্রিল মাসের ৪ তারিখ কোভিড আক্রান্ত হয় তন্ময় বাবু ও তাঁর মা। কোভিড থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পরই তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচিতে। তন্ময় বাবু একটি ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমেও সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি সহ গুজব থেকে বিরত থাকা, চিকিৎসকদের ও প্রশাসনের কথা মেনে চলা সহ বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা কর্মসূচি নিয়েছেন। প্রায় দুই দশক আগে মেখলিগঞ্জে বিবেকানন্দ ইন্সটিটিউট ফর এডুকেশন অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার নামে একটি কোচিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সেই কোচিং সেন্টারে সেসময় পড়াশুনা করা ছাত্র ছাত্রী ও শিক্ষক শিক্ষিকাদের নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিবেকানন্দ ইন্সটিটিউট ফাইট ব্যাক কোভিড নামের একটি গ্রুপের সাহায্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

- Advertisement -

জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে সেই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ১৩০ হয়েছে। গ্রুপের ভার্চুয়ালি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। খুব শীঘ্রই তাঁরা বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে। মাইক্রো লেবেল মনিটরিংয়ের মধ্য দিয়ে মেখলিগঞ্জের সিংহ পাড়া, ঘোষ পাড়া, কদম তলা চত্ত্বর সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে মানুষকে সচেতন করতে উদ্যোগী হয়েছেন শিক্ষক দম্পতি। উপনচৌকি উচ্চ বিদ্যালয়ের(উচ্চ মাধ্যমিক) পড়ুয়াদের নিয়ে ফাইট ব্যাক কোভিড ইউসিএইচএস গ্রুপের মধ্যে দিয়ে উক্ত এলাকার বাসিন্দাদের ও সচেতন করার চেষ্টা করছেন। গত বছর থেকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ক্লাবের হয়ে মাস্ক, স্যানিটাইজার বিলি থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্য তুলে দিতেও দেখা গিয়েছে তন্ময় বাবুকে।

তন্ময় সেনগুপ্ত ও মধুমিতা সরকার সেনগুপ্ত বলেন, ‘কোভিডের তৃতীয় ঢেউ আসতে চলেছে। এই অবস্থায় প্রতিটি মানুষকে মাস্ক ও স্যানিটাইজার বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহার করতে হবে। সরকার যতটা সম্ভব প্রচেষ্টা করে চলেছে। কিন্তু গণ সচেতনতা ছাড়া এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব না।’