নিজের শরীরে করোনা প্রতিষেধকের পরীক্ষার জন্য আবেদন শিক্ষকের

395

আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট: নিজের শরীরের ওপর কোভিড-১৯ ভাইরাসের সম্ভাব্য প্রতিষেধকের পরীক্ষার সম্মতি দিলেন আরও এক শিক্ষক। তাঁর আবেদন লিখিতভাবে দিল্লির এইমসে পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। এখন শুধু ডাক পাওয়ার অপেক্ষায় মোবাইলের দিকেই নজর তাঁর।

আগেই আবেদন করার পর শরীরে কোভিড-১৯ ভাইরাসের সম্ভাব্য প্রতিষেধকের পরীক্ষার জন্য ডাক পেয়েছেন দুর্গাপুরের শিক্ষক চিরঞ্জিত ধীবর। এবার আবেদন করলেন বীরভূমের নলহাটি বুজুং বিষ্ণু নারায়ণ আদর্শ শিক্ষা পীঠের শারীর শিক্ষার শিক্ষক মোহন সিনহা।

- Advertisement -

দুই শিক্ষকের মধ্যে মিল রয়েছে অনেক। দু’জনেরই বাড়ি বর্ধমান জেলায়। কর্মসূত্রে মোহন সিনহা এখন বীরভূমের রামপুরহাটে। তবে দুজনেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের সক্রিয় কর্মী। মোহন সিনহার জন্মভিটে পানাগড়ে। বাবা বাসুদেব সিনহা দুর্গাপুর এমএএমসিতে কর্মরত ছিলেন।

মা মায়া অধিকারী সিনহা ছিলেন শিক্ষিকা। দুই ভাই ও বাবা মা সকলেই মৃত্যুর পর শরীর দানের অঙ্গীকার করেছেন। সেই মতো মায়ের মৃত্যুর পর কর্নিয়া এবং দেহ বর্ধমান মেডিক্যাল হাসপাতালে দেওয়া হয়েছে। কর্মসূত্রে বীরভূমের রামপুরহাটে আসেন মোহন সিনহা।

বর্তমানে রামপুরহাট শহরের একটি ভাড়া বাড়িতে ছোট্ট মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে সুখী সংসার। নিজে একদিকে আর এস এসের সক্রিয় কর্মী থেকে আর্ট অফ লিভিংয়ের প্রশিক্ষক। বিজেপির শিক্ষা সেলের জেলা কনভেনর। বছর বিয়াল্লিশের মোহনবাবু বলেন, ‘চলতি বছরের মে মাসে আবেদন করেছিলাম। আবেদনের সঙ্গে শরীরের সুস্থতার শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন ডাক আসেনি। অপেক্ষায় রয়েছি।’

স্ত্রী মেয়ে থাকতেও কেন ঝুঁকি নিতে গেলেন? প্রশ্নে মোহনবাবু বলেন, “বহু মানুষ দেশের জন্য আত্মত্যাগ করছেন। তাদের মধ্যে যেমন রাষ্ট্রীয় সয়ং সেবক সংঘ, সেনাবাহিনীর জওয়ানরা রয়েছেন। আমার ছোট থেকে ইচ্ছে ছিল সেনাবাহিনীতে যোগদান করা এবং পরমবীর চক্র পাওয়া। যেটা মৃত্যুর আগে পাওয়া যায় না। অর্থাৎ দেশের জন্য নিজেকে উজার করে দেওয়া।

কিন্তু সেটা হয়নি, কারন মায়ের ইচ্ছে ছিল আমি শিক্ষকতা করি। তাই পুলিশে চাকরি পেয়েও ছেড়ে দিয়েছিলাম। এন সি সিতে যোগ দিয়ে ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসে রাষ্ট্রপতি আবুল কালাম, প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর সামনে কুচকাওয়াজ করেছি।

মায়ের ইচ্ছে পূরণ করতে শিক্ষকতায় যোগদান করি। তবে দেশের প্রতি আমার যে ভালোবাস তা ভুলতে পারিনি। তাই সংকীর্ণ স্বার্থ ত্যাগ করে বিশ্বের পরিবারের জন্য আমি এগিয়ে এসেছি। আমি প্রস্তুত রয়েছি। ডাক পেলেই পৌঁছে যাব যেখানে যেতে বলা হবে।’