ছাঁদনাতলায় বেঁকে বসল কিশোরী, বিয়ে রুখল পুলিশ

118

রায়গঞ্জ: নাবালিকা মেয়েকে ভুলিয়ে জোর করে বিয়ে দেওয়ার আয়োজন করছিল বাবা, মা। সব ঠিকঠাক চলছিল। তবে, ছাঁদনাতলায় হঠাৎ বেঁকে বসল মেয়ে। বিয়ের আসরেই চিৎকার জুড়ে দেয় সে। নাবালিকার চিৎকারে জুড়ে যান পাড়াপড়শিরা। সমস্ত কিছু জানার পর মুহুর্তেই প্রতিবেশীরা খবর দেন পুলিশ ও শিশু কল্যান সমিতিতে। শেষ অবধি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কিশোরীর বিয়ে রুখল। পাশাপাশি তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় রায়গঞ্জ থানায়।

জানা গিয়েছে, উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ থানার গৌরী গ্রাম পঞ্চায়েতের নরম কলোনির বাসিন্দা ওই কিশোরী। চলতি শিক্ষাবর্ষে দশম শ্রেণির ছাত্রী তিনি। স্থানীয় সূত্রে খবর, পড়াশোনা করতে চেয়ে বারবার বাবা-মায়ের কাছে মিনতি করেছিল। যদিও কোনও লাভ হয়নি। ভুল বুঝিয়ে একপ্রকার জোর করেই বিয়ের আয়োজন শুরু হয় পরিবারের তরফে। বুধবার তাঁর বিয়ের দিন ঠিক করা হয়। সেই মতো জোর করে পরিয়ে দেওয়া হয় বিয়ের সাজ। হাজির হয় পাত্র। শেষ মুহূর্তে কোন উপায় না পেয়ে কিশোরী বিয়ের আসরেই চিৎকার শুরু করে। শেষ অবধি বিয়ে বন্ধ হয়। অন্যদিকে, কিশোরীর অনিচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ ও চাইল্ড ইন নিড ইনস্টিটিউশন।

- Advertisement -

ওই কিশোরী বলেন, ‘আমি বিয়ে করতে চাইনি। আমি পড়াশোনা করে শিক্ষিত হতে চাই। আমি আর বাড়ি ফিরতে চাই না।’

গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সীমা মন্ডল বলেন, ‘পুলিশ মারফত খবর পাই আমি। মেয়ের পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।’

রায়গঞ্জ থানার এক পুলিশ আধিকারিক জানান, মেয়েটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছে। বাবা-মা’র খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

উত্তর দিনাজপুর জেলার চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি চেয়ারম্যান তথা রায়গঞ্জ জেলা আদালতের আইনজীবী অসীম রায় বলেন, ‘মেয়েটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। বিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’