ভ্যাকসিন দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে উত্তরের পর্যটনশিল্প

135

সানি সরকার, শিলিগুড়ি : করোনা ডুবিয়েছে। এবার ভ্যাকসিনকে আঁকড়ে পর্যটনশিল্পকে বাঁচাতে চাইছেন ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যেই পর্যটনশিল্পের মধ্য দিয়ে রাজ্যের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড নতুন করে শক্তিশালী করতে ভ্যাকসিনকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে রাজস্থান থেকে ছত্তিশগড়, নাগাল্যান্ড থেকে জম্মু-কাশ্মীরের মতো একাধিক রাজ্য। এই রাজ্যগুলিতে পর্যটনের স্টেকহোল্ডারদের ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রক্রিয়া তো চলছেই, সেইসঙ্গে ডাবল ডোজ নেওয়া থাকলে বিশেষ ছাড় দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যগুলি। স্টেকহোল্ডার সহ পর্যটনের সঙ্গে যুক্তদের ভ্যাকসিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এ রাজ্যের সরকারও। ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তবে পর্যটকদের নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি রাজ্য প্রশাসন। এদিকে, ভ্যাকসিনকে গুরুত্ব দিয়ে পর্যটনের দরজা খুললে কিছুটা হলেও রোজগারের হাল ফিরবে বলে মনে করছেন উত্তরবঙ্গের পর্যটন ব্যবসায়ীরা। ডাবল ডোজ নেওয়া পর্যটকদের বিশেষ ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে চিন্তাভাবনাও শুরু করে দিয়েছেন তাঁরা।

কালিম্পং হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধান্ত সুদ বলেন, কোভিডের জন্য গতবছর তো বটেই সেইসঙ্গে এ বছরও পর্যটনের ভরা মরশুমে আমাদের উপার্জনহীন হয়ে থাকতে হয়েছে। সরকারি বিধিনিষেধ রয়েছে জুন মাস পর্যন্ত। ফলে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হলেও গ্রীষ্মকালীন পর্যটন নিয়ে আমাদের আর কোনও আশা নেই। তাই পুজোর আগে কিছুটা ছাড় দিয়ে পর্যটক টানা যায় কি না, সে ব্যাপারে আমরা চিন্তাভাবনা করছি। দার্জিলিং হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বিজয় খান্না বলেন, আমরা রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি। ছাড় দিতে আমাদের তেমন কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু সুষ্ঠু পরিবহণ ব্যবস্থা চালু না হলে পর্যটকরা আসবেন কীভাবে? আশা করব পর্যটনে গুরুত্ব দিয়ে রাজ্য সরকার বিশেষ কিছু বন্দোবস্ত করবে।

- Advertisement -

এ ব্যাপারে কী ভাবছে প্রশাসন? পর্যটন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, স্টেকহোল্ডারদের ভ্যাকসিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সেই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রগুলিকে সুরক্ষিত রাখাই আমাদের লক্ষ্য। পর্যটনের মধ্যে দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে ভ্যাকসিনের ওপরই জোর দিচ্ছে দেশের একাধিক রাজ্য।

ভুটান যেমন পর্যটকদের ভ্যাকসিন নেওয়া বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। অনেক রাজ্য ভাবছে, যে পর্যটকদের ডাবল ডোজ ভ্যাকসিন নেওয়া রয়েছে, তাঁদের বিশেষ ছাড় দেওয়া যায় কি না। হোটেল বুকিং থেকে খাবার, গাড়িভাড়া থেকে গাইডের খরচ, সমস্ত কিছুতেই ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কয়েকটি রাজ্যের পর্যটন ব্যবসায়ীরা। কোনও ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ তো আবার কোনও ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। গুজরাটের এক হোটেল ব্যবসায়ী সুশীল প্যাটেল জানান, তাঁরা ২০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছেন। তবে যাঁদের ডাবল ডোজ ভ্যাকসিন নেওয়া রয়েছে, তাঁরাই এই সুবিধা পাবেন। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড টুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, যদি ভ্যাকসিন নেওয়া পর্যটকদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তবে পর্যটনকেন্দ্রগুলি যেমন সুরক্ষিত থাকবে, তেমনই রোজগারে ফিরব আমরা।

এই রাজ্যগুলির সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতেই ডাবল ডোজ ভ্যাকসিন নেওয়া থাকলে আরটি-পিসিআর টেস্ট রিপোর্টের প্রয়োজন নেই বলে ঘোষণা করেছে একটি বিমান সংস্থাও।