রাজ্যে স্কুল বন্ধ রাখা নিয়ে শাসকদলের সমালোচনা করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

220

বর্ধমান, ১৮ অগাস্টঃ স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা নিয়ে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার। বুধবার বর্ধমানে দলীয় কর্মসূচি শহীদ সন্মান যাত্রায় যোগ দিতে এসে সুভাষ সরকার বলেন, প্রতিদিন দেখা যাচ্ছে সংক্রমণ কমছে। এই রাজ্যে পার্ক খুলে দেওয়া হয়েছে। অথচ, স্কুল খোলার ব্যাপারে কোনও চিন্তাভাবনা নেই রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের। স্কুল ও কলেজের বিষয়টি কেন্দ্র এবং রাজ্যের যৌথ ব্যাপার। ২০২০ সালের ১৭ মে ১৩টি অ্যাডভাইসারি পাঠানো হয়েছে।রাজ্য সরকার এর একটিও স্কুলে পাঠায়নি। তাঁরা শুধু রাজনীতি করতেই ব্যস্ত বলে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন।

শহীদ সম্মান যাত্রা প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুভাষ সরকার বলেন, ভোট পরবর্তী হিংসায় এখনও পর্যন্ত এই রাজ্যে ৪০ জনের বেশি বিজেপি কর্মী মারা গিয়েছেন। অত্যাচার, এখনও চলছে। সেইসব শহীদ পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এবং শহীদদের সন্মান জানাতেই এই কর্মসূচি করা হচ্ছে বলে মন্ত্রী দাবি করেছেন। ত্রিপুরার গনতন্ত্র নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের পালটা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে হিটলারতন্ত্র চলছে। তাই, ওঁনার মুখে এসব মানায় না।ত্রিপুরায় ব্রাত্য বসুকে বুলেটপ্রুফ গাড়ি, এমনকি পাইলট কার পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল বলে সুভাষ সরকার দাবি করেছেন।

- Advertisement -

এদিন বর্ধমানে দলীয় কর্মসূচি সেরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বর্ধমানের ১০৮ শিব মন্দিরে পুজো দেন। এরপর তিনি পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ বিধানসভার চান্না গ্রামে থাকা সাধক কমলাকান্ত ও বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশ্রম পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। আশ্রম পরিদর্শন শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুভাষ সরকার বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামী যতীন্দ্রমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাধক কমলাকান্তের স্মৃতিবিজড়িত চান্না গ্রামের আশ্রমের সংস্কার ও উন্নতিকল্পে স্থানীয় মানুষদের অনুপ্রাণিত করতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। পরে, তিনি বীরভূমের পথে রওনা দেন। পথে বর্ধমানের হলদি মোড়ের কাছে সুভাষ সরকারকে কালো পতাকা দেখায় তৃণমূলের কিষাণ ক্ষেতমজুর সংগঠনের সদস্যরা। যদিও, কালো পতাকা দেখানোর বিষয়টিকে মন্ত্রী সুভাষ সরকার গুরুত্ব দিতে চাননি।

এদিকে, চান্না গ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম যতীন্দ্রমোহন বলেছিলেন। সে বিষয় নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। খণ্ডঘোষের তৃণমূল বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগ এ প্রসঙ্গ নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তিনি বলেন, বিজেপি দলের কেউই বাংলা এবং বাংলার মনীষীদের সন্মান করতে জানেন না। মনীষীদের সম্পর্কেও তাঁরা জানেন না। তাই শহীদ সন্মান দিবস পালন করতে চান্না গ্রামে গিয়ে সুভাষ সরকার স্বাধীনতা সংগ্রামী যতীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম যতীন্দ্রমোহন বলে চলে গেলেন। এর থেকে বড় লজ্জার আর কিছু হতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।