নম্বর বৃদ্ধির ঘটনায় ঢোঁক গিলছেন পরীক্ষা নিয়ামক

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি : আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কাউন্সিলকে অন্ধকারে রেখেই পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে সিমেস্টারের উত্তরপত্র। টিএমসিপি নেতার সুপারিশ চিঠির ভিত্তিতে আইন বিভাগের নম্বর বৃদ্ধি কাণ্ডে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এল।

আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কাউন্সিলের সচিব নূপুর দাস জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এমনকি তাঁর দপ্তরে ওই সংক্রান্ত কোনও নির্দেশ বা চিঠিও আসেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম বলছে, আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণেই কাজ করে বোর্ড অফ স্টাডিজ। বিশেষ ব্যবস্থাপনায় উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের প্রস্তাব বা সিদ্ধান্ত আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কাউন্সিল থেকেই বোর্ড অফ স্টাডিজে যাওয়ার কথা। অথচ এত বড় একটা সিদ্ধান্তের কথা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কাউন্সিলের আধিকারিকরা। কেন কাউন্সিলকে এড়িয়ে পুনর্মূল্যায়ন করা হল তার যথায়থ উত্তর দিতে পারছেন না পরীক্ষা নিয়ামক দেবাশিস দত্ত। তিনি বলেন, এটা ঠিক যে আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কাউন্সিলের মাধ্যমেই কাজ হওয়া উচিত ছিল। সবটা কাউন্সিলের সচিবের জানা উচিত ছিল। বোর্ড অফ স্টাডিজ তা জানায়নি। অনিয়ম যে হয়েছে তা খোদ পরীক্ষা নিয়ামকের বক্তব্যেই স্পষ্ট। তাহলে সব জানা সত্ত্বেও কেন এক বছরে তদন্ত করা হয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে।

- Advertisement -

টিএমসিপি নেতার চিঠিতেই নোট দিয়ে পরীক্ষা নিয়ামককে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার নির্দেশ দেন উপাচার্য সুবীরেশ ভট্টাচার্য। চিঠিতে উপাচার্যের নোটের পাশেই নোট দিয়ে আইন বিভাগের বোর্ড অফ স্টাডিজের মতামত চান পরীক্ষা নিয়ামক। তারপরই বোর্ড অফ স্টাডিজ পুনর্মূল্যায়নের কথা জানায়। চিঠির কথা প্রকাশ্যে আসতেই সুর বদলাতে শুরু করেছেন দেবাশিসবাবু। এদিন তিনি বলেন, টিএমসিপি নেতার দেওয়া চিঠির ভিত্তিতে পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আইন বিভাগের প্রস্তাবের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তাহলে কেন নেতার চিঠিতে নোট দিয়েছিলেন? উত্তরে পরীক্ষা নিয়ামক বলেন, পরে আমরা বুঝেছি ওই নোট দেওয়া উচিত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, নিজেদের মুখরক্ষায় নথিপত্র সংশোধনের কাজ শুরু করেছে পরীক্ষা নিয়ামক বিভাগ। টিএমসিপি নেতার চিঠির ভিত্তিতে নয়, পরীক্ষার্থীর আবেদনের ভিত্তিতেই পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছিল সেটা প্রমাণ করার জন্য রাতারাতি কাগজপত্র জোগাড় করা হচ্ছে। যদিও তেমনটা মানতে চাননি পরীক্ষা নিয়ামক।

আইন বিভাগের পুনর্মূল্যায়নে দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে এদিন শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি পাঠান শিলিগুড়ির বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্য। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত উপাচার্যকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিও করেছেন তিনি। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা ও ভর্তি ব্যবস্থায় একের পর এক দুর্নীতির অভিয়োগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে এদিন উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেয় সেভ এডুকেশন নামে একটি সংস্থা। বাম মনোভাবাপন্ন ওই সংস্থা স্মারকলিপি দিতে যাওয়ার পর ক্যাম্পাসে হাজির হন টিএমসিপির নেতা-কর্মীরা। প্রশাসনিক ভবনের মূল গেটে স্লোগান দিতে থাকে টিএমসিপি। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়কে কালিমালিপ্ত করতে চাইছে সেভ এডুকেশন। প্রশাসনিক ভবনের অন্য গেটে পালটা স্লোগান দেন সেভ এডুকেশনের সদস্যরা। যদিও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।