পরীক্ষায় নারাজ উপাচার্যরা, ইউজিসিকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত

232

নিউজ ব্যুরো : রাজ্য সরকার পোষিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্যরাও ইউজিসির নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী চূড়ান্ত সিমেস্টারে পরীক্ষা নেওয়ার বিরোধিতা করলেন। শুক্রবার উপাচার্যরা বৈঠকে বসে এ ব্যাপারে আলোচনা করেন। তাঁদের আপত্তি জানিয়ে ইউজিসিকে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উপাচার্যরা। রাজ্য সরকারের মতোই তাঁদের বক্তব্য, পড়ুয়াদের সুস্থ থাকার স্বার্থে এবং ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে তাঁরা চূড়ান্ত সিমেস্টারের পরীক্ষা নিতে চান না। ইউজিসির আগের নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্য সরকার মূল্যায়নের যে ৮০-২০ পদ্ধতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে তার সঙ্গেই তাঁরা সহমত। রাজ্যে করোনা সংক্রমণ যে তীব্র গতি নিয়েছে, তাতে পরীক্ষার্থী বা অভিভাবকরাও পরীক্ষার পক্ষে নয় বলেই তাঁরা জানিয়েছেন।

ইউজিসির নয়া নির্দেশিকা নিয়ে ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারের তরফে শিক্ষাসচিব মণীশ জৈন কেন্দ্রীয় উচ্চশিক্ষা দপ্তরের সচিবকে চিঠি দিয়ে আপত্তির কথা জানিয়েছেন। এপ্রিল মাসে ইউজিসি নির্দেশিকা দিয়েছিল, আগের সিমেস্টারগুলির পরীক্ষার ফল ও অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে চূড়ান্ত সিমেস্টারের ফলাফল প্রকাশ করা হবে। সেই নির্দেশিকা অবলম্বন করেই রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, আগের সিমেস্টারের পরীক্ষাগুলির নম্বরের ভিত্তিতে ৮০ শতাংশ ও অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ভিত্তিতে ২০ শতাংশ নম্বর দেওয়া হবে। এই ব্যবস্থাটি ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক মহল স্বাগত জানায়। কিন্তু সম্প্রতি ইউজিসি নয়া নির্দেশিকা জারি করে অনলাইন, অফলাইন বা দুই ব্যবস্থার সমন্বয়ে চূড়ান্ত সিমেস্টারের পরীক্ষা গ্রহণের কথা বলে। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি ১৫ জুলাই এই নিয়ে উপাচার্যদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকও ডেকেছেন। যদিও রাজনৈতিক মহলের ধারণা, অন্যান্য বারের মতো এবারও আচার্যের ডাকা বৈঠকে উপাচার্যরা হাজির থাকবেন না। শুক্রবার রাজ্যপাল নিজেই টুইটে জানান, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ঘরোয়াভাবে কথা হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে উচ্চ শিক্ষাসচিব আজ রাজভবনে আসছেন। তবে শিক্ষাসচিবের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছে কি না, তা বেশি রাত পর্যন্ত জানা যায়নি। কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য তথা উপাচার্য পরিষদের সহ সভাপতি ডঃ দেবকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, অনলাইনে উপাচার্য পরিষদের মিটিং হয়েছে। সেখানে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এভাবে পরীক্ষা নিতে পারব না। এই অবস্থায় আমরা যদি পরীক্ষা নিই তাহলে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা বিপদে পড়বেন। সার্বিকভাবে সমাজের কাছে একটা ভুল বার্তা যাবে। রাজ্যের সমস্ত উপাচার্য এ বিষয়ে সহমত। ইউজিসিকে তা জানিয়ে দেওয়া হবে। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ডঃ সুবীরেশ ভট্টাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ২৯ এপ্রিল একটি নির্দেশিকা দিয়েছিল। সেই নির্দেশিকার পরিপ্রেক্ষিতে ২৭ জুন রাজ্য সরকার অ্যাডভাইজারি বের করেছে। সেই অনুয়াযী আমরা ফল প্রকাশ করব। কেন না রাজ্যে যা পরিস্থিত তাতে পরীক্ষার আয়োজন করা সম্ভব নয়। আমরা আমাদের অসুবিধার কথা জানিয়েছি।

- Advertisement -