অসহায়ভাবে দিন কাটছে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের

174

মুরতুজ আলম, সামসী : চার মাস আগে কালবৈশাখীর ঝড়ে ভেঙে পড়েছে বাড়িঘর। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি এখনও কোনো সরকারি সাহায্য পায়নি। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য, প্রধান থেকে শুরু করে ব্লকে সমস্যার কথা জানালেও শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি ছাড়া আর কিছুই মেলেনি বলে অভিযোগ। ফলে চূড়ান্ত দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের কুশিদা পঞ্চায়েতের রামপুর গ্রামের বেশ কয়েকটি পরিবারকে।

গত ২৯ মে কালবৈশাখীর ঝড় আছড়ে পড়ে হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় কুশিদা পঞ্চায়েতের রামপুর গ্রামের বেশ কয়েকটি পরিবার। গ্রামের ১০ থেকে ১৫টি পরিবারের বাড়িঘর ভেঙে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঘরে রাখা আসবাবপত্রও। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সদস্য টিকনা রায়, শিয়াল রায়, ঝন্টু রায়রা বলেন, কালবৈশাখীর ঝড়ে আমাদের বসবাসের একমাত্র ঘর ভেঙে গিয়েছে। মাথা গোঁজার জন্য পলিথিন সহ প্রয়োজনীয় ত্রাণের জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য এবং প্রধানের কাছে আর্জি জানিয়েছিলাম। তাঁরা সবকিছু দেখে গিয়ে সাহায্যের আশ্বাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু চার মাস কেটে গেলেও কোনোরকম সাহায্য মেলেনি। কোনোকিছু বলতে গেলেই তাঁরা শুধু একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে কোনোরকমে বাঁশের বেড়া ও মাথার ওপরে ছেঁড়া পলিথিন বা কাপড় টাঙিয়ে দিন গুজরান করছি। বৃষ্টির দিনে অন্যের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়। আর মাত্র দুই থেকে তিন মাস পরেই শীত পড়বে। তখন কীভাবে রাত কাটাব, সেই চিন্তাতেই কপালে ভাঁজ পড়েছে। ঘরের অভাবে ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করতে পারে না। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও খোলা আকাশের নীচে শুয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তাই আমাদের জন্য যদি সরকারি কোনো প্রকল্পে ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়, তবে খুব উপকৃত হই।

হরিশ্চন্দ্রপুর-১-এর বিডিও অনির্বাণ বসু বলেন, স্থানীয় পঞ্চায়েতকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কালবৈশাখীতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ দিতে। তারপরেও দুর্গতরা ত্রাণ পাননি। এটা দুর্ভাগ্যজনক। কুশিদা পঞ্চায়েত প্রশাসনের কাছে এব্যাপারে কৈফিয়ত তলব করা হবে। ক্ষতিগ্রস্তরা যদি সরাসরি ত্রাণের জন্য ব্লকে আসেন, তাহলে তাঁদের পর্যাপ্ত ত্রাণ দেওয়া হবে। সঙ্গে একটি সাদা কাগজে দরখাস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির যদি ছবি তুলে নিয়ে আসেন তাহলে খুব ভালো হয়। কুশিদা পঞ্চায়েতের প্রধান আখতারি খাতুন বলেন, আমরা ব্লক প্রশাসনের তরফে কোনো ত্রাণ পাইনি বলে কাউকে দিতেও পারিনি। শুধু উত্তর রামপুর নয়, কুশিদা পঞ্চায়েত এলাকায় কালবৈশাখীতে পাঁচশোর মতো কাঁচাবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।