প্রশাসনের হুশ নেই, রাস্তা তৈরি করলেন গ্রামবাসীরাই

206

আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট: রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার পাকা রাস্তার নির্মাণের দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু আজও বঞ্চিত বীরভূমের নলহাটি-২ নম্বর ব্লকের রায়পুর গ্রাম। বাধ্য হয়ে গ্রামবাসীরাই অর্থ এবং শ্রম দিয়ে তৈরি করলেন রাস্তা।

নলহাটি-২ ব্লকের রায়পুর থেকে কল্যাণপুর পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা মাটির তৈরি। তার মধ্যে রায়পুর গ্রাম থেকে পাঁচশো মিটার রাস্তা নদী পাড়। বৃষ্টি হলেই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা যায় না। বার বার আবেদন নিবেদন করেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বাধ্য হয়ে রায়পুর গ্রামের মানুষ পাঁচশো মিটার রাস্তায় পাথর ও ডাস্ট ফেলে সংস্কার করলেন।

- Advertisement -

একশো দিনের কাজের এক দিনের টাকা দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করলেন ২৫০ জন জব কার্ডধারী। রবিবার নলহাটি-২ ব্লকের রায়পুর থেকে কল্যাণপুর পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার রাস্তার মাটির তৈরি। বৃষ্টি হলেই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা যায় না। রায়পুর গ্রামের কাছে পাঁচশো মিটার রাস্তায় পাথর ও ডাস্ট ফলে রাস্তা মেরামত করলেন সকলে।

এলকাবাসীরা জানান, সাতটি গ্রামের মানুষজনকে এই রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করতে হয়। স্কুল পড়ুয়া থেকে বৃদ্ধ হোক বা রোগীকে নিয়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হয় সকলকে। রোগীদের খাটে শুয়ে কাঁধে করে রায়পুর পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে গাড়িতে চাপতে হয়। বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ জানিয়েও ঢালাই বা পিচের রাস্তা তৈরি হয়নি বলে অভিযোগ।

মকরমপুর গ্রামের বাসিন্দা শুভাশিস লেট, কদম মণ্ডলরা বলেন, “বর্ষাকালে রাস্তা দিয়ে হাঁটাচলা করা যায় না। নদীর পাড়ের এই রাস্তা থাকায় অভিভাবকরা তিন মাস ছেলেমেয়েদের স্কুল কিংবা গৃহশিক্ষকের কাছে পাঠাতে চান না। তাই গ্রামবাসীরা নিজেদের সাধ্যমত রাস্তা নির্মাণ করলেন। আপাতত নরক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া গেল।

ভদ্রপুর-১ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সুবীর মণ্ডল বলেন, ‘সাতটি গ্রামের হামিদুর, কুন্দপাড়া, প্রসাদপুর কানুপুর, মকরমপুরের প্রায় দুই হাজার মানুষকে এই বেহাল রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। আমাদের গ্রামের কিছু মানুষ তাদের একশো দিনের মজুরি থেকে একদিনের টাকায় পাথর, ডাস্ট কিনে শ্রম দিয়ে রাস্তা মেরামতের কাজে হাত লাগিয়েছে। আমি জানি পঞ্চায়েতের তহবিলে এই রাস্তা হবে না। জেলায় আবেদন করেছি। গ্রামবাসীর এই উদ্যোগ দেখে আমিও তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। তাদেরকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছি।’