টানা বৃষ্টিতে জলস্তর বাড়ছে যমুনা নদীতে, জলমগ্ন নদী সংলগ্ন এলাকা

563

অমিত কুমার রায়, মানিকগঞ্জ: টানা বৃষ্টিতে বেড়েছে যমুনা নদীর জলস্তর। বুধবার রাত থেকে নদী উপচে সেই জল ক্রমশ ঢুকে পড়ছে নদী সংলগ্ন গ্রামগুলিতে। তার জেরেই জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

রাতেই বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু রাস্তায় তিরপাল টাঙিয়ে কিংবা ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে বহু পরিবার। অভিযোগ বৃহস্পতিবারও দুর্গতদের সাহায্যে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। খবর পেয়ে এলাকা পরিদর্শনে যান দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান বিমল দাস। তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছেন বলেও জানান।

- Advertisement -

গত মঙ্গলবার থেকে টানা ভারী বৃষ্টিতে যুমুনা নদীর জল বেড়েছে। নদীর দুই কূল উপচে জলমগ্ন হয়ে পড়ে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের নলজোয়া পাড়া ও ঘাটের পাড় ও সেনপাড়া এলাকা। পানীয় জলের উৎস সহ রান্নার উনুন জলের তলে চলে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সাধারণ মানুষ। জীবন বাঁচাতে রাতেই তাঁরা গবাদিপশু সহ আশ্রয় নেন ত্রাণ শিবিরে।

স্থানীয় বাসিন্দা তথা প্রাক্তন প্রধান সারদা প্রসাদ দাস জানান, ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের নলজোয়া পাড়ার ১৩৪টি পরিবার ও ঘাটের পাড় ও সেনপাড়া এলাকার প্রায় ১০টি পরিবার জলবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে নলজোয়া পাড়ার ৩৫টি পরিবার মানিকগঞ্জ হাইস্কুলের ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। ঘাটের পাড় ও সেনপাড়া এলাকার প্রায় ১০টি পরিবার মানিকগঞ্জ-সাতকুড়া রাজ্য সড়কের উপর তিরপাল টাঙিয়ে দিনযাপন করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মিনা রায়, হিরেন রায় জানান, বাড়িঘর জলমগ্ন হওয়ায় খাওয়া ও পানীয় জলের সমস্যা হচ্ছে। গবাদিপশুদের খাবরের যোগান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়াও জল বৃদ্ধি পাওয়ায় পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে। আরতি রায়, প্রীতম রায় জানান, জলের তোড়ে রাজ্য সড়কের কালভার্ট সহ রাস্তা ভেঙে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। আমন ধান সহ ফসলের জমি জলের তলায় ডুবে রয়েছে। অথচ এলাকায় দেখা মিলছে না প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিদের।

এদিকে বন্যা পরিস্থিতির খবর পেয়ে এলাকায় ছুটে যান জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের স্যানিটারি ইনস্পেক্টর সুব্রত গুহ ও ম্যালেরিয়া ইনস্পেক্টর অমৃত রায় সহ অন্য স্বাস্থ্য কর্মীরা। দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিমল দাস বলেন, ‘প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। শিবিরে আশ্রয় নেওয়া দুর্গতদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।’ উপপ্রধান সুমিত্রা অধিকারি বলেন, ‘নিজ উদ্যোগে শিবিরের দুর্গতদের ভাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ যদিও এই বিষয়ে জলপাইগুড়ি সদর বিডিও-র কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।