কালিন্দ্রীর গ্রাসে তলিয়ে যেতে বসেছে আস্ত গ্রাম

প্রকাশ মিশ্র, মানিকচক : এবার শুরু হল কালিন্দ্রীর ভাঙন। এই নদীর ভাঙনে মানিকচকের সাহেবনগর কাঞ্চনটোলায় তলিয়ে গেল যোগাযোগকারী একমাত্র রাস্তা। বর্তমানে নদী থেকে গ্রামের দূরত্ব মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিটার। মাত্র তিনমাস আগেই এখানে ভাঙন রোধের কাজ করেছিল সেচ দপ্তর। ভাঙনে সেই কাজের জায়গাও তলিয়ে গিয়েছে। এবার গোটা গ্রাম নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছেন কালিন্দ্রীপাড়ের মানুষ। প্রশাসনের মাধ্যমে সেচ দপ্তরকে জানানো হলেও তারা কোনও খোঁজখবর নেয়নি বলে অভিযোগ। তাই সেচ দপ্তরের ওপর আস্থা হারিয়ে বাঁশ ও বালির বস্তা নিয়ে ভাঙন রোধের কাজে নেমে পড়েছেন গ্রামবাসীরা।

আপাত নিরীহ কালিন্দ্রী নদী পালটাচ্ছে তার চরিত্র। মাঝেমধ্যেই শুরু হচ্ছে ভাঙন। গত দুএক বছর ধরে এই বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গতবছর কালিন্দ্রী স্কুলের কাছে গৌরীপুরের অনেকটা অংশ নদীগর্ভে চলে যায়। পরে সেচ দপ্তর সেখানে ভাঙনরোধের কাজ করে। যদিও ওই জায়গার পরিস্থিতি এখনও স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে। নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে চৌকি মিরদাদপুর অঞ্চলের সাহেবনগর কাঞ্চনটোলা এলাকায়। এখানে ৫০-৬০টি পরিবার বাস করে। গ্রামের গা ঘেঁষে বইছে কালিন্দ্রী। দিন দুয়েছের বৃষ্টিতে কালিন্দ্রীর ভাঙন শুরু হয়েছে বলে খবর। দুদিনে এক কিলোমিটার জুড়ে প্রায় ৩০-৪০ মিটার চওড়া অংশ নদীতে তলিয়ে গিয়েছে। গ্রামের যোগাযোগকারী একমাত্র রাস্তায় বইছে কালিন্দ্রীর স্রোত। ফলে ত্রাহি রব উঠেছে নদী তীরবর্তী গ্রামে। সবার আতঙ্ক, দুএক দিন বৃষ্টি হলে নদীতে তলিয়ে যেতে পারে আস্ত গ্রাম। এই আশঙ্কায় বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছেন গৌরী মণ্ডল, মোজাফফর আহমেদরা।

- Advertisement -

স্থানীয় এক গ্রামবাসী বলেন, দুদিন আগে থেকেই বৃষ্টিতে ভাঙন শুরু হয়েছে। রাস্তা কেটে গিয়েছে। এখন গ্রাম থেকে নদীপাড়ের দূরত্ব মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিটার। মাস তিনেক আগে সেচ দপ্তর ভাঙনরোধের কাজ করেছিল। কিন্তু তাদের কাজের মান এতটাই খারাপ যে সেই কাজ স্থাযী হয়নি। দুটাকার কাজ হয়েছে, অথচ হয়তো বিল হয়েছে ৫০ টাকা। ইচ্ছামতো কাজ করেছে ঠিকাদার সংস্থা। কিন্তু দপ্তরের কর্তারা ফিরেও তাকাননি। এখন যা অবস্থা, তাতে তারের জালি দিয়ে বোল্ডার ক্রেট ছাড়া নদীর ভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়। আমাদের জীবন বিপন্ন। আমরা বিষয়টি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও বিডিওকে জানিয়েছিলাম। যাতে সেচ দপ্তর দ্রুত কাজ শুরু করে। কিন্তু দুদিন কেটে গেলেও সেচ দপ্তরের কেউ এলাকায় আসেনি। নদী কাটার এই আতঙ্কে রাতে ঘুমোতে পারি না। এই অবস্থায় আমরা নিজেরাই চাঁদা তুলে ভাঙনরোধের কাজে নেমেছি।

আরেক গ্রামবাসী মোজাফফার আহমেদ জানান, সেচ দপ্তর যে কাজ করেছিল, তার মধ্যে ওই এলাকার দুই প্রান্তে কয়েকটা বালির বস্তা ছাড়া আর কোনও চিহ্ন নেই। এখন গ্রাম থেকে কয়েক মিটার দূরে নদী। যেভাবে নদী ভাঙছে, তাতে দুএকদিন বৃষ্টি হলে গ্রাম আর বাঁচানো যাবে না। তাই ভাঙন ঠেকাতে বাঁশ ও বালির বস্তা নিয়ে আমরাই কাজে নেমেছি। মানিকচকের বিডিও জয় আহমেদ বলেন, আমরা সেচ দপ্তরকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। অন্যদিকে, মালদা সেচ দপ্তরের নির্বাহী বাস্তুকার প্রণবকুমার সামন্ত জানান, গতকালই আমরা এই ভাঙনের বিষয়ে জেনেছি। বৃহস্পতিবার থেকে ওখানে ভাঙনরোধের কাজ শুরু হবে।