যৌন মিলনের টোপ দিয়ে স্বামীকে খুন করল স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিক

4067

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: স্বামীকে ঘর থেকে বাইরে নিয়ে গিয়ে প্রেমিককে দিয়ে খুন করাল স্ত্রী। পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের জামতারা গ্রামের ঘটনা। রবিবার মৃতের স্ত্রী প্রীতি বাউরি ও তাঁর প্রেমিক মঙ্গল বাউরিকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় আউশগ্রাম থানার পুলিশ। সবিস্তার রোমহর্ষক ঘটনাবলি প্রীতি ও মঙ্গল এদিন খুনের ঘটনার পুনর্নিমাণের সময়ে পুলিশের কাছে তুলে ধরে। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে খুনের ঘটনার প্রকৃত কাহিনী জানার পর পুলিশের কাছে ওই মহিলা ও তাঁর প্রেমিকের ফাসির দাবি জানান মধুসুদনের বাবা নাড়ু বাউরি।

পুলিশ জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার সকাল থেকে মধুসুদনের খোঁজ মিলছিল না। পরে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে আমবাগান ঘেরা নির্জন জায়গায় মেলে পেশায় লটারি টিকিট বিক্রেতা মধুসুদনের গলা কাটা দেহ। পুলিশ খুনের মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্তে নামে। পরদিন মধুসুদনের স্ত্রী প্রীতি ও তাঁর প্রেমিক মঙ্গলকে গ্রেফতার করে পুলিশ হেপাজতে নেওয়া হয়। জেরায় ধৃতরা খুনের কথা কবুল করে। এদিন ধৃত দুজনকেই ঘটনাস্থলে নিয়ে যান তদন্তকারী পুলিশ অফিসার। তাঁর এবং এলাকাবাসীর সামনে ধৃতরা খুনের ঘটনার পুনর্নিমাণ করে দেখায়। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েই প্রীতি ও মঙ্গল পুলিশের কাছে খুনের সবিস্তার ঘটনা খুলে বলে এবং কিভাবে খুন করেছে তার পুলিশকে জানায়।

- Advertisement -

প্রীতি বাউড়ি এদিন পুলিশকে জানায়, এলাকার যুবক মঙ্গলের সঙ্গে তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। মধুসুদন এই সম্পর্কের বিষয়ে জানার পর থেকে তাঁর সঙ্গে অশান্তি শুরু করে। সেই কারণে সে ও তাঁর প্রেমিক মিলে পথের কাঁটা মধুসুদনকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেবার পরিকল্পনা কষে ফেলে। পরিকল্পনা মাফিক সে তাঁর স্বামীকে বলে বাড়িতে যৌন মিলনে লিপ্ত হবার জন্য বাড়ির বাইরে আমবাগানে নিয়ে যায়। এমন টোপ দিয়ে প্রথম দিন রাতে বাইরে নিয়ে গেলেও কাজ হাঁসিল করতে পারেনি। এরপর গত সোমবার রাতে একই কথা বলে প্রীতি তাঁর স্বামী মধুসুদনকে ওই আমবাগান ঘেরা নির্জন জায়গায় ফের নিয়ে যায়। তাদের যৌন মিলনের সময়েই সেখানে পৌছে যায় মঙ্গল।

মধুসুদন কিছু বুঝে ওঠার আগেই মঙ্গল পেছন দিক থেকে তার মুখ টিপে ধরে গলায় ধারালো ব্লেড চালিয়ে দেয়। মধুসুদনের মৃত্যু নিশ্চিৎ করতে পরে মঙ্গল গামছা দিয়ে মধুসুদনের গলায় ফাঁস দিয়ে চেপে ধরে। এই গোটা ঘটনায় প্রীতি ছিল মধুসুদনের একমাত্র সঙ্গী। ওই দিন ভোরের আলো ফোটার আগেই স্বামীর মৃতদেহ আমবাগানে ফেলে রেখেই প্রীতি শ্বশুরবাড়ির ঘরে এসে ঢুকে পড়ে। আউসগ্রাম থানার পুলিশ জানিয়েছে, হাড়হিম করা এই গোটা ঘটনাই পুনর্নিমাণ পর্বে প্রকাশ করেছে ধৃতরা। নিহতের পরিবার পরিজনরা ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েই দুই অভিযুক্তের ফাসির দাবি জানান পুলিশকর্তাদের কাছে।