আর্থিক সাহায্য পেয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন আলিপুরদুয়ারের মহিলা পরিচালিত পুজো কমিটিগুলি

386

রাঙ্গালিবাজনা: পঞ্চাশ হাজারে মুশকিল আসান হয়েছে ওদের। তাই রাজ্য সরকার বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকের মহিলা পরিচালিত পুজো কমিটিগুলির সদস্যারা। করোনা পরিস্থিতির জেরে ব্যবসায়ীদের হাতে টাকা নেই।এরকম পরিস্থিতিতে চাঁদা চাইবেন কার কাছে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন এলাকার মহিলারা পরিচালিত পুজো কমিটির সদস্যারা। তবে রাজ্য সরকারের তরফে পঞ্চাশ হাজার টাকা পেয়ে তাদের মুশকিল আসান হয়েছে বলে জানান আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকের মহিলা পরিচালিত একাধিক পুজো কমিটির সদস্যারা।

আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকের দক্ষিণ রাঙ্গালিবাজনা গ্রামের আমবাড়িতে ৬৭ জন গৃহবধূর উদ্যোগে দুর্গাপুজো হচ্ছে। সেই পুজো নিয়ে এখন ভীষণ ব্যস্ত পুজো কমিটির সম্পাদক লতিকা রায়, কোষাধ্যক্ষ জোনাকি রায়, সদস্যা রীণা শৈব, কল্পনা শৈব, লক্ষ্মী রায়, অঞ্জলি রায় সহ অন্যান্যরা। হেঁসেল সামলানোর পাশাপাশি পুজো শুরুর প্রাক্কালে তাদের যাবতীয় কাজ পরিচালনা করতে হচ্ছে।

- Advertisement -

তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর ছবি সংবলিত ফ্লেক্সও মণ্ডপে টাঙিয়ে রেখেছেন। পুজো কমিটির সভাপতি বিউটি রায় বলেন, “১৩ বছর আগে এলাকার মহিলারা পুজো পরিচালনার দায়িত্ব হাতে তুলে নেন। কিন্তু প্রত্যন্ত গ্রামে আর্থিক সমস্যার কারণে মহিলা পরিচালিত পুজো কয়েক বছর পরই বন্ধ হয়ে যায়। গত বছর ফের উদ্যোগ নিয়ে পুজো করলেও আর্থিক কারণে আমরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হই। কিন্তু এবছর রাজ্য সরকারের তরফে পঞ্চাশ হাজার টাকা পেয়ে আমাদের সমস্যা মিটে গিয়েছে। আমরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

রাঙ্গালিবাজনা গ্রামপঞ্চায়েতের শিশুবাড়ির শিরিষতলায় মহিলারাই পুজো পরিচালনা করেন। পুজো কমিটিতে রয়েছেন ২০ জন মহিলা। সভাপতি জ্যোৎনা রায়, কমলা সরকার, সম্পাদক শিপ্রা সরকার, শিখা রক্ষিত, কোষাধ্যক্ষ সান্তনা মন্ডল, ঝর্ণা সরকারের মতো গৃহবধূরা পুজো নিয়ে এসময় ভীষণ ব্যস্ত। হেঁসেল সামলানোর পাশাপাশি বছরের পর বছর ওরাই পুজো পরিচালনার দ্বায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এবছর রাজ্য সরকারের তরফে পঞ্চাশ হাজার টাকা পেয়ে তাদেরও আর্থিক সমস্যার চিন্তা দূর হয়েছে। পুজো কমিটির সদস্যদের মধ্যে প্রতিমা রাউত, কৃষ্ণা দাস, মুনমুন সাহা দাস প্রমুখ জানান, এবছর হাটে চাঁদা না তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কারণ ব্যবসায়ীদের হাতে টাকা কম। এছাড়া হাটের ভিড়ে করোনা সংক্রমণের ভয় রয়েছে। মুনমুন সাহা দাস বলেন, “রাজ্য সরকার টাকা না দিলে এ বছর পুজোর আয়োজন করতে হিমশিম খেতে হত।”

খয়েরবাড়ি গ্রামপঞ্চায়েতের মাস্টারপাড়া পুজো কমিটির সদস্যা নমিতা রায় বলেন, “রাজ্য সরকার টাকা না দিলে হয়তো পুজোর আয়োজন করা অসম্ভব হয়ে পড়ত। টাকাটা পাওয়ায় ‌‌‌সমস্যা মিটে গিয়েছে।” প্রসঙ্গত, মাস্টারপাড়ায় পুজো কমিটির সভাপতি শর্মিলা রায়, সম্পাদক সাবিত্রী রায়, কোষাধ্যক্ষ বিজলি রায় সহ অন্যান্য সদস্যারা এখন পুজো নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত। মহিলা পরিচালিত পুজো কমিটিগুলির সদস্যারা জানান, পুজোমণ্ডপে ঢোকা নিয়ে আদালতের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে চলবেন। এছাড়াও পঞ্চাশ হাজার টাকার একটা অংশ মাস্ক ও স্যানিটাইজার কিনতে ব্যয় করা হবে বলে তাঁরা জানান।