বকেয়া টাকা মেটানোর দাবিতে ব্যাংক ঘেরাও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা

127

মোথাবাড়ি: ছাত্র-ছাত্রীদের পোশাক দিয়েও দু’বছর ধরে টাকা পাচ্ছে না স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। ড্রেসের টাকা ও অ্যাকাউন্ট অপারেটর পরিবর্তনের দাবিতে ব্যাংক ঘেরাও করল স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। দু’বছর আগে পোশাক সরবরাহ করেও টাকা না পাওয়ায় কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লকের বাঙ্গীটোলা অঞ্চলের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আজ বাঙ্গীটোলা অঞ্চলের শতাধিক গোষ্ঠীর মহিলা তাদের টাকার দাবিতে বাঙ্গীটোলা বঙ্গীয় গ্রামীণ ব্যাংক ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায়। ছাত্রছাত্রীকে ছাত্রীদের পোশাকের টাকা ও অ্যাকাউন্টের সিগনেচার অপারেটর পরিবর্তনের দাবিতে ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে ঘেরাও করে রাখে। সমস্যা সমাধানে ছুটে আসেন কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লকের জয়েন্ট বিডিও দেবব্রত মণ্ডল এবং সভাপতি টিংকু রহমান বিশ্বাস। ডেকে পাঠানো হয় ব্যাংকের বাঙ্গীটোলার গঙ্গা গুচ্ছ মহিলা সংঘের সেক্রেটারি তথা সিগনেচার অপারেটর সুরেফা খাতুনকে।

স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের সমস্যা নিয়ে ব্যাংকের মধ্যেই চলে রুদ্ধদ্বার বৈঠক। অবশেষে সমস্যা সমাধান ইঙ্গিত পেলে বিক্ষোভ উঠে যায়। স্বনির্ভর  গোষ্ঠীর মহিলাদের দাবি তারা ২০১৯ সালে বাঙ্গীটোলা অঞ্চলের ২৯টি বিদ্যালয়ের পোশাক সরবরাহ করে। প্রতিটি বিদ্যালয় তাদের সংঘের নামে চেক দিলেও। সেই টাকা তারা তুলতে পারছে না। ফলে ড্রেসের কাজের সঙ্গে যুক্ত দর্জি ও কাপড় ব্যবসায়ীর টাকাও তারা প্রদান করতে পারছে না। সংঘের দলনেত্রী সারিফা খাতুন ব্যাংকের অপারেটর হাওয়াই তার অসহযোগিতাই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। তাই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর দাবি টাকা আদায়ের পাশাপাশি ব্যাংক অপারেটর পরিবর্তন করে প্রশাসনকে এই সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধান করতে হবে। এই ঘটনায় বাঙ্গীটোলা অঞ্চলের ৪০০টি সহায়ক দলের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৫০০০ মহিলাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও বিক্ষোভ দানা বেঁধেছে।

- Advertisement -

বাঙ্গীটোলা গঙ্গা গুচ্ছ মহিলা সংঘের বোর্ড অফ ডিরেক্টরস এর সদস্য চামেলি খাতুন জানিয়েছেন, ‘আমরা গরিব মহিলা ২০১৯ সালে প্রতিটি বিদ্যালয়ে পোশাক সরবরাহ করি‌। বিদ্যালয়গুলিতে থেকে চেক পাই। কিন্তু সেই চেক আমরা ভাঙাতে পারছি না। ফলে আমাদের প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লক্ষ টাকা আটকে গেছে। সঙ্ঘের মূল অপারেটর সুরেফা খাতুন স্বাক্ষর না করায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।’

বোর্ড অফ ডিরেক্টরের আর এক সদস্য লিপিকা মণ্ডল জানিয়েছেন, ‘আমাদের অ্যাকাউন্টের মোট তিনজন সদস্য। একজন সঙ্গ ছেড়ে দিয়েছে। বাকি দুজনের মধ্যে সংঘের সম্পাদিকা সুরেফা খাতুন চেকে স্বাক্ষর না করায় তারা টাকা পাচ্ছে না। আমরা বারবার ব্যাংক অপারেটর চেঞ্জ এর জন্য আবেদন জানালেও প্রশাসন ও ব্যাংক তা করছে না। ব্যাংক অপারেটর পরিবর্তন ও ২৭ লক্ষ টাকার দাবিতে আমরা আজ ব্যাংক ঘেরাও করেছি। আজ জয়েন্ট বিডিও ব্লক সভাপতি এসে সারিফাকে দেখে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করলেও সম্পূর্ণ সমাধান হয়নি। আমরা চাই ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে যে তিনজন অপারেটর আছেন প্রশাসনের উদ্যোগে নতুন করে বৈঠক ডেকে সেই অপারেটর পরিবর্তন করা হোক।’

মহিলাদের ব্যাংকের অ্যাকাউন্টের অপারেটর পরিবর্তনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন সঙ্ঘের অ্যাকাধিক মহিলারা। যদিও বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত বাঙ্গীটোলা গঙ্গা গুচ্ছ মহিলা সঙ্ঘের সম্পাদিকা তথা ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট অপারেটর সুরেফা খাতুন জানিয়েছেন, ‘আমি অ্যাকা সংঘ চালায় না। আমি আমার উপর ওয়ালাদের সঙ্গে কথা না বলে সংবাদ মাধ্যমে একটি কথা ও জানাবো না। সঙ্গে কিছু মহিলার ভুলে এই ঘটনা ঘটেছে। আমি ড্রেস ছড়াবার দায়িত্ব থাকলে এই সমস্যা হতো না।’

বিষয়টি নিয়ে কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লকের জয়েন বিডিও দেবব্রত মণ্ডল জানিয়েছেন, ‘ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট অপারেটরদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির জন্য এই ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা সব অপারেটর কে নিয়ে ম্যানেজারের সঙ্গে বৈঠক করি। সমস্যাটি সাময়িক ও আংশিকভাবে মেটানো সম্ভব হয়েছে। কিছু কিছু চেকে দুই অপারেটরকে ম্যানেজার সামনের দিকেই সই করিয়ে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের টাকা তোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’