তমালিকা দে, শিলিগুড়ি, ১১ জুলাই : ভরা বর্ষার নদী যখন চরের বসতি ভাসিয়ে দেয়, তখন সেই সর্বনাশী নদীই চরবাসীদের বেশ কয়েকদিনের রুটির জোগান দেয়। প্রবল বৃষ্টিতে দুকূল ভাসানো উত্তাল মহানন্দার বুকে তারা ঝাঁপিয়ে পড়ে দুটো রোজগারের আশায়। প্রতিবছর এমন ঘটনার সাক্ষী থাকে শিলিগুড়ি শহর।

প্রবল বৃষ্টিতে মহানন্দার জলে ভেসে আসা কাঠের টুকরো, গাছের ডাল তুলে তা বিক্রি করে দুপয়সা রোজগার করেন শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গানগর ও তুলসীনগরের প্রায় এক হাজার বাসিন্দা। ঝেঁপে বৃষ্টি নামলেই মহানন্দার লালমোহন মৌলিক নিরঞ্জন ঘাটের সামনে এসে জড়ো হয় বস্তির উঠতি বয়সের ছেলেরা। ঘাটে দাঁড়িয়ে দড়ির ফাঁসে ভেসে আসা কাঠের টুকরো ধরে কেউ। কেউ আবার প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে নেমে পড়ে মহানন্দায়। কাঠ কুড়নোর প্রতিযোগিতা চলে। বছরের আর পাঁচটা দিন যাদের দুবেলা দুমুঠো খাবার জোটে না, এই কদিন কাঠের টুকরো বা খড়ি বিক্রি করে তাদেরও দুপয়সা আয় হয়। দুমুঠো খাবার জোটে।

বর্ষায় পাহাড়ে প্রবল বৃষ্টিতে ধস নেমে বিভিন্ন জায়গা থেকে মহানন্দার জলে ভেসে আসে এই কাঠের টুকরো, গাছের ডাল। তা সংগ্রহ করার জন্য নদীর জলে নেমে পরে এলাকার কচিকাঁচারাও। দিনে দিনে এই কাঠ কুড়নোর প্রতিযোগিতা এমন হয়েছে যে ঘাটের জায়গা দখল নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঝামেলাও হচ্ছে। তরুণ কুমার নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আমার মতো অনেকেই নদীর জলে ভেসে আসা খড়ির আশায় থাকে। এই খড়ি বিক্রি করে ভালো টাকা পাওয়া যায়।  রুকসানা বেগম নামে আরেক বাসিন্দার কথায়, এই নদী আমাদের বাঁচার রসদ জোগায়। বর্ষায ভেসে আসা কাঠের টুকরো কেউ বিক্রি করে। কেউ বা জ্বালানি হিসাবে বাড়িতে ব্যবহার করে। আর পুজোর বিসর্জনের পর তো ঠাকুরের কাঠামো বিক্রি করে আমাদের ভালো রোজগার হয়।

নদীর জল থেকে তোলা কাঠ এলাকার বস্তিবাসীদের বছরের আয়ের উৎস, একথা জানেন পুরনিগমের কর্তা থেকে শুরু করে কমিশনারেটের পুলিশকর্তারাও। বিশেষত, বর্ষার ভয়ংকর মহানন্দায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই কাঠ ধরার প্রতিযোগিতা থেকে যে কোনোদিন বড়ো কোনো দুর্ঘটনা হবে না, তার নিশ্চয়তা কেউই দেবেন না। কিন্তু তাঁদের কেউই এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেননি।