কংক্রিটের শহরে পুরোনো স্মৃতি মনে করায় কাঠের বাড়ি

254

অভিজিৎ ঘোষ, আলিপুরদুয়ার : কালজানি নদীর তীরে একটা বসতি। কিছু বাড়ি আর পাহাড়ের কোল থেকে বয়ে আসা নদী ও জঙ্গল। এক শতাব্দী আগে আলিপুরদুয়ারের চিত্র এটাই ছিল। বাড়ি বলতে তখন ছিল কাঠের ঘর। আজ আলিপুরদুয়ার কংক্রিটের শহরে পরিণত হয়ে গিয়েছে। তবু শহরের কিছু পাড়ায় সেই শতাব্দীপ্রাচীন কাঠের ঘর চোখে পড়ে। যার বেশিরভাগই ধ্বংসপ্রায়। কিছু কাঠের বাড়ি অবশ্য এখনও ব্যবহার হচ্ছে।

আগে কাঠের দোতলা বাড়ি বিত্তশালীদের পরিচয় ছিল। এখনও কাঠের ঘরবাড়ি দেখা যায় জঙ্গল লাগোয়া বিভিন্ন গ্রামে। আলিপুরদুয়ারের কাঠের বাড়ি তৈরির সবচেয়ে বড় কারণ ছিল দুটো। প্রথমত, বক্সা জঙ্গল লাগোয়া এই বসতি হওয়ায় আগে হামেশাই বিভিন্ন হিংস্র প্রাণী ঘুরে বেড়াত। তাই কাঠের দোতলা সব থেকে সুরক্ষিত ছিল। আরেকটি কারণ হল, আলিপুরদুয়ার বন্যাপ্রবণ এলাকা। সেকারণেও দোতলা সবচেয়ে সুরক্ষিত ছিল।

- Advertisement -

আলিপুরদুয়ার পুরসভা এলাকার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ১১ হাত কালীবাড়ি এলাকায় প্রয়াত লক্ষ্মীকান্ত রায়ের শতাব্দীপ্রাচীন কাঠের বাড়ি রয়েছে। লক্ষ্মীকান্তবাবুর এক নাতি কমলেশ রায় পুরোনো কাঠের বাড়িতেই থাকেন। অপর নাতি বাবলু রায়ও কাঠের ঘরেই থাকেন, তবে সেটি আধুনিকভাবে তৈরি করা। বাবলুবাবু বলেন, ঠাকুরদা পুরোনো কাঠের বাড়িটি তৈরি করেছিলেন। পরবর্তীতে কিছু সংস্কার করা হয়। আমি আলাদা আরেকটা কাঠের ঘর বানিয়েছি। কাঠের ঘরে থেকে যে সুখ পাই, সেটা কংক্রিটের ঘরে পাব না। বাবলুবাবুর প্রতিবেশী সন্তোষ বিষ্ণুর বাড়িতেও রয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন কাঠের ঘর। প্রয়াত কংগ্রেস নেতা বিশ্বরঞ্জন সরকারের বাসভবনও কাঠ দিয়ে তৈরি পুরোনো বাড়িগুলোর মধ্যে অন্যতম নিদর্শন। শহরের ২, ৮, ১২ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ড মিলিয়ে আজও ৩০-৩৫টি কাঠের বাড়ি চোখে পড়ে।

চিলাপাতা, জলদাপাড়া জঙ্গল লাগোয়া গ্রামে গেলেই চোখে পড়বে আজও সেই পুরোনো কাঠের ঘর। কোনওটা ৭০ বছর বা তারও বেশি বছরের পুরোনো। যুগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাঠের জায়গা নিয়েছে সিমেন্ট, বালি, পাথর। কারণ, এখন কাঠের দাম বেশি। কাঠ দিয়ে পুরো ঘর তৈরি করা তাই গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে স্বাপ্নই থেকে যায়। নিতাই রাভা, কানাই রাভা, কান্দনি রাভা, রবি রাভা, বিমল রাভা, বীরেন রাভার মতো কিছু মানুষ কাঠের ঘরকে খুব যত্নে আগলে রেখেছেন। বন দপ্তরের বিভিন্ন অফিসও কাঠের তৈরি, যেগুলোর অনেকগুলি আজও ঝকঝক করে। এমনকি, বনবিভাগে কর্মরত আধিকারিকদের অনেকেই কাঠের ঘরে থাকেন।