দুই যুগেও শেষ হয়নি ভাটোল সেতুর কাজ, ক্ষোভ চাষিদের

80

হেমতাবাদ:  দীর্ঘ দুই যুগেও শেষ হয়নি তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের ডাউক নগর প্রধান খালের ভাটোল জলসেতুটির নির্মাণ কাজ। যার ফলে রায়গঞ্জ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে রসাখোয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকার চাষিরা তিস্তার জল না পাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, টাকার জন্য নয়, জমিজট ও টেন্ডার জটিলতার জন্য আটকে রয়েছে ওই সেচ প্রকল্পের কাজ। প্রশাসনিক স্তরেও নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখর থানার পৌটি থেকে ভাটোলের নাগর পর্যন্ত চ্যানেল ও জল সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে উপকৃত হবেন এই জেলার প্রায় ২ লক্ষ চাষি। কাজ শুরুর দাবিতে ভোট বয়কটের হুমকিও দিয়েছেন তাঁরা।

তিস্তা সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্যানেল সহ সেতু প্রকল্পটির মোট নির্মাণ ব্যয় ৩০০ কোটি টাকা। ২৩ বছর আগে ১৯৯৭ সালের ২৯ জানুয়ারি রাজ্যের তৎকালীন সেচ ও জলপথ দপ্তরের মন্ত্রী দেবব্রত বন্দোপাধ্যায় ভাটোল তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পটির শিলান্যাস করেন। তারপর ওই জলসেতুটির ৮টি পিলার নির্মাণ কাজ। ৪০৬ মিটার দীর্ঘ জলসেতুটির নির্মাণ বাবদ খরচ হয়েছে ২৪ কোটি টাকা। জলসেতুটির কংক্রিটের মোরা চ্যানেল তৈরি করতে চাই আরও ৩৭ কোটি টাকা।

- Advertisement -

সিপিএমের প্রার্থী ভূপেন্দ্র নাথ বর্মন বলেন, ‘ভোটে জিতলে তিস্তা সেচ প্রকল্পের কাজ পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেবো।’ বিজেপির পদপ্রার্থী চাঁদিমা রায় বলেন, ‘রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসলে আমি এই বিধানসভা কেন্দ্রে জিতলে এই প্রকল্পের কাজ চালু করব। প্রয়োজনে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কাছে এই প্রকল্প চালুর আবেদন করব।’ তৃণমূল প্রার্থী সত্যজিৎ বর্মন বলেন, ‘ভোটে জিতলে বন্ধ থাকা তিস্তা প্রকল্পের কাজ চালু করার আবেদন করব আমাদের দলনেত্রী তথা তৃণমূলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে।’

রায়গঞ্জের তিস্তা চ্যানেল ডিভিশনের এক আধিকারিক বলেন, ‘রায়গঞ্জের প্রাক্তন সংসদ কেন্দ্রীয় জল সম্পদ মন্ত্রী থাকার সময় তিস্তাকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে আনা হয়। ওই প্রকল্পের ৯০ শতাংশ টাকা দেবে, কেন্দ্র-রাজ্য দেবে মাত্র ১০ শতাংশ। তাই টাকার অভাবের জন্য নয়, চ্যানেল সহ সেতু প্রকল্পটি অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে জমিজট ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণেই। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে আটকে আছে টেন্ডার। কবে মিটবে জানা নেই।’