রাজ আমলের ইঁদারা পরিষ্কারের কাজ শুরু হল মেখলিগঞ্জে

59

মেখলিগঞ্জ: মেখলিগঞ্জ বাজারে অবস্থিত রাজ আমলের ইঁদারা পরিষ্কারের কাজ শুরু হল মেখলিগঞ্জে। বুধবার ইঁদারাটি পরিদর্শনে যান মেখলিগঞ্জ পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা মেখলিগঞ্জ পুরসভার পুর আধিকারিক সিদ্ধার্থ রায় চৌধুরী। বৃহস্পতিবার মেখলিগঞ্জ পুরসভার তরফে ইঁদারা পরিষ্কার করার কাজ শুরু করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একসময় মেখলিগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের একমাত্র ভরসা ছিল রাজ আমলের সেই ইঁদারা। সাধারণ মানুষ নিজেদের বিভিন্ন কাজের জন্য ইঁদারাটিকে ব্যবহার করতেন। কিন্তু পরবর্তীতে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ও চূড়ান্ত প্রশাসনিক অবহেলায় বর্তমানে বেহাল দশায় পৌঁছেছে ইঁদারাটি।

মেখলিগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কিশলয়ের তরফে প্রভাত পাটনী বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরেই ইঁদারাটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছি। অবশেষে মেখলিগঞ্জ পুরসভা সেকাজ শুরু করায় আমরা খুশি।’ মেখলিগঞ্জ পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা মেখলিগঞ্জ পুরসভার পুর আধিকারিক সিদ্ধার্থ রায় চৌধুরী বলেন, ‘ওটা খোঁড়া যাবে না। ইঁদারাটির ওপর একটা পাকুর গাছ হয়েছে। ওটা পরিষ্কার করে তার ঐতিহ্য যাতে বজায় থাকে সেটা দেখা হবে। ওখানে যাতে কেউ আবর্জনা না ফেলে ও অসামাজিক কাজ কর্ম না হয় তা দেখা হবে। ইঁদারা সংলগ্ন এলাকায় দুটো দোকানের মাঝে একটা গ্রীলের দরজা করে দেওয়া হবে। তার চাবি ইঁদারা সংলগ্ন ব্যবসায়ীদের কাছে থাকবে। বাজে আড্ডা যাতে না হয় সেটা দেখতে বলা হবে।’

- Advertisement -

উল্লেখ্য, কোচবিহার জেলার সীমান্ত ঘেঁষা মহকুমা শহর মেখলিগঞ্জ। একসময় কোচবিহারের গুরুত্বপূর্ণ শহর ছিল মেখলিগঞ্জ। রাজ আমলে প্রচুর ভবন ও অন্যান্য কাজ তৈরি হয়েছিল মেখলিগঞ্জে। তার মধ্যে একটি হল মেখলিগঞ্জ বাজারে অবস্থিত ইঁদারা। দীর্ঘদিন ব্যবহার ও সংস্কারের অভাবে যা পরবর্তীতে পরিণত হয়েছে আবর্জনা ফেলার জায়গায়। ইঁদারাটিতে জন্ম নিয়েছে পাকুর গাছ। এনিয়ে ক্ষোভ দানা বেঁধেছিল মেখলিগঞ্জের বিভিন্ন মহলে। ফলে জোরালো দাবি উঠেছিল রাজ আমলের সেই ইঁদারাটিকে সংরক্ষণের।