ডাম্পিং গ্রাউন্ডের কাজ থমকে বীরপাড়ায়

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, বীরপাড়া : জমি জোগাড় করার পরও তা নিয়ে বিতর্কের কারণে বীরপাড়ায় ডাম্পিং গ্রাউন্ড ও সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছিল না। অবশেষে ৩১ জানুয়ারি থেকে গ্যারগান্ডা নদীর তীরে শিশুঝুমরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ডাম্পিং গ্রাউন্ড ও সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প তৈরির কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে কাজ। বীরপাড়ার রাস্তায় তো বটেই, ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়ের ওপরেও আবর্জনা জমছে। বৃষ্টিতে ভিজে সেই আবর্জনা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তবে বীরপাড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, গ্রাম পঞ্চায়েত কর্মীদের তরফে বিরবিটি নদীর কাছে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় আবর্জনা ফেলা হয়। কর্মীদের রাস্তার পাশে আবর্জনা ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়নি বলে জানান গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রমেশ মণ্ডল। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে কেউ কেউ আবর্জনা তুলে রাস্তার পাশে ফেলছেন, ফলে সমস্যা হচ্ছে।

বীরপাড়ায় আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় বছরের পর বছর ধরে সমস্যায় ভুগছেন এলাকার বাসিন্দারা। কয়েক বছর আগে গ্যারগান্ডা নদীর পশ্চিম তীরে ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরি করার জন্য জমি চিহ্নিত করে প্রশাসন। কিন্তু সেই জমি দখল হয়ে যায়। দেড় বছর ধরে চেষ্টা করেও জমি পুনরুদ্ধারে প্রশাসন ব্যর্থ হওয়ায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের তরফে বরাদ্দ করা ২০ লক্ষ টাকাও ফেরত যায়। এরপর নদীর পূর্ব তীরে প্রায় আড়াই বিঘা খাসজমি গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের হাতে ওই প্রকল্প তৈরির জন্য তুলে দেয় ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। কিন্তু কাজ শুরুর পরেই করোনা পরিস্থিতির জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে প্রকল্পের কাজ।

- Advertisement -

বীরপাড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই প্রকল্পটির জন্য মাদারিহাট-বীরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতি ৩৮ লক্ষ টাকার পরিকল্পনা তৈরি করেছে। পঞ্চায়েত সমিতি জানিয়েছে, ওই প্রকল্প জেলা পরিষদে পাঠানো হলে তা অনুমোদিত হয়। গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুয়াযী ওই ৩৮ লক্ষ টাকার মধ্যে গ্রাম পঞ্চায়েত ১০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের সীমানাপ্রাচীর ও অন্য কাজ করবে। তবে তার আগে এলাকাটির জঙ্গল সাফাই, জমি সমান করা, রাস্তা তৈরি করা সহ প্রাথমিক কাজে ১০০ দিনের প্রকল্পে আরও অতিরিক্ত ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা খরচ করা হবে। মোট তিনটি ধাপে কাজ করা হবে। কিন্তু লকডাউন শুরু হওয়ায় শুরুতেই থমকে যায় ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরির কাজ। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বলেন, করোনা পরিস্থিতির জেরে কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে শীঘ্রই প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।