কোচবিহার মেডিকেলে আঞ্চলিক ব্লাড ব্যাংকের কাজ থমকে

202

কোচবিহার : করোনা পরিস্থিতির জেরে কোচবিহার সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আঞ্চলিক ব্লাড ব্যাংকের কাজ থমকে গিয়েছে। সেখানকার জেলা ব্লাড ব্যাংককে আঞ্চলিক ব্লাড ব্যাংকে উন্নীত করার প্রক্রিয়া শুরু করা হলেও সেই কাজ এখন বিশবাঁও জলে। কবে প্রকল্পটি সম্পন্ন হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। এমএসভিপি ডাঃ রাজীব প্রসাদ বলেন, করোনা সংকটের জন্য এখন আপাতত অন্য কাজকর্ম স্থগিত রয়েছে। আঞ্চলিক ব্লাড ব্যাংকের কাজটি বন্ধ রয়েছে। তবে আশা করছি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে।

কোচবিহার মেডিকেলের ব্লাড ব্যাংকটি জেলাস্তরের ব্লাড ব্যাংক। বর্তমানে সেটি উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আঞ্চলিক ব্লাড ব্যাংকে উন্নীত হওয়ার পর কোচবিহার জেলা বাদেও পার্শ্ববর্তী আলিপুরদুয়ার জেলার বিভিন্ন হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক কোচবিহারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কোচবিহার মেডিকেলের ব্লাড ব্যাংকে একজন মেডিকেল অফিসার রয়েছেন। আঞ্চলিক ব্লাড ব্যাংকে উন্নীত হলে সেখানে পাঁচজন অফিসার নিয়োগ করা হবে। রক্ত রাখার জন্য কোল্ড স্টোরেজ রুম তৈরির পাশাপাশি টেকনিশিয়ান নিয়োগ ও উন্নতমানের যন্ত্রপাতি বসানো হবে। কোচবিহার সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক থেকে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন কমবেশি ১০০ ইউনিট রক্ত সরবরাহ করা হয়। বছরদুয়েক আগে সেখানে রক্তের বিভাজন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ৩০০ ইউনিট রক্ত ব্লাড ব্যাংকে মজুত করে রাখার পরিকাঠামো রয়েছে। আঞ্চলিক ব্লাড ব্যাংকে পরিণত হলে সেখানে তিন হাজার ইউনিট রক্ত মজুত করে রাখার পরিকাঠামো তৈরি হবে।

- Advertisement -

আঞ্চলিক ব্লাড ব্যাংক তৈরি হলে জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবার অনেকটাই সুবিধা হবে বলে মনে করছে মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। তবে বর্তমানে করোনা সংকটের জেরে সেই কাজ আটকে রয়েছে। গত জানুয়ারি মাস থেকে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে করোনা সংকটের জন্য সেই প্রকল্পের ফাইল এখন আটকে রয়েছে। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এখন সেদিকেই তাকিয়ে মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। জেলা হাসপাতাল থেকে মেডিকেল কলেজে উন্নীত হওয়ার ফলে পার্শ্ববর্তী জেলার রোগীদের সংখ্যাও এখানে বেড়েছে। তাই তাঁদের রক্তের জোগান এখান থেকে দেওয়া হয়। ফলে এখানে রক্তের চাহিদা দিনদিন বাড়ছে। তবে রক্ত সংগ্রহের কিট ও নানা কাজের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উপরই কোচবিহার মেডিকেলকে নির্ভর করতে হচ্ছে। আঞ্চলিক ব্লাড ব্যাংকে উন্নীত হলে সেই সমস্যা থাকবে না বলে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ।