ঝুঁকি নিয়ে ফের ভিনরাজ্য পাড়ি দিলেন শ্রমিকরা

গৌতম দাস, গাজোল : দিন কয়েক আগে ছবিটা ছিল অনেকটাই আলাদা। সারাদেশে জারি হওয়া লকডাউনের জেরে জাতীয় সড়ক বা রেললাইন ধরে হাজারো শ্রমিক মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ফিরে চলেছেন বাড়ির দিকে। শ্রমিকদের ঘরে ফেরার সেই ছবি ও তাঁদের করুণ কাহিনী জায়গা করে নিয়েছিল সংবাদমাধ্যমে। পরে অবশ্য ট্রেন এবং বাসে এই শ্রমিকদের নিয়ে আসা হয়েছে নিজের নিজের এলাকায়।

তবে তা নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। তাতেও লেগেছিল রাজনীতির রং। একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপিয়েছিল কেন্দ্র ও রাজ্য। কিন্তু এত কিছুতেও করোনা সংক্রমণ কমেনি। বরং দিনের পর দিন জেলায় করোনার গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। অন্যদিকে, ভিনরাজ্য থেকে ঘরে ফিরে আসা শ্রমিকরা এলাকায় কাজ না পেয়ে চরম সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। রাজ্য সরকারের তরফে আশ্বস্ত করা হয়েছিল, ১০০ দিন প্রকল্পে এই সমস্ত শ্রমিকদের কাজ দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। হাজার হাজার মানুষকে কাজ দেওয়ার মতো পরিকাঠামো গড়ে তোলা যায়নি। ফলে কাজ হারানো এই মানুষরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আবার পাড়ি দিচ্ছেন ভিনরাজ্যে। রবিবারও গাজোল থেকে বাস ভর্তি শ্রমিক রওনা দিয়েছেন দিল্লির পথে। বামনগোলা ব্লকের পাকুয়া এলাকা থেকে এসেছিলেন মনোরঞ্জন ওঁরাও, রাজু রায়দের ১২ জনের একটি দল। তাঁরা জানান, করোনার ভয়ে দিল্লি থেকে পালিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু এলাকায় এসে কাজ জোটেনি। হয়তো কোনও বাড়িতে পাঁচদিন কাজ করেছি, কিন্তু বাড়ির মালিক বেতন ধরিয়েছেন দুদিনের। বলছেন বাকি টাকা পরে দেব। কিন্তু এভাবে কি সংসার চলে?

- Advertisement -

তাঁরা জানান, পরিবার-পরিজনদের অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটানো আর মেনে নিতে পারছিলাম না। তাই বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আবার ভিনরাজ্যে যাচ্ছি। জানি, সারা দেশে করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কিন্তু পেটের জ্বালা বড় জ্বালা। করোনার থেকেও ভযংকর। পেটের জ্বালা মেটানোর জন্যই দিল্লি যাচ্ছি। সেখানে আমরা নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করব। সেখানে কাজ করে দৈনিক মজুরি হিসাবে ৫০০-৭০০ টাকা পাওয়া যায়। নিজেদের খরচ বাদ দিয়ে ভালো পরিমাণ টাকা প্রতি মাসে বাড়িতে পাঠাতে পারি। তা দিয়ে চলে সংসার। আমাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য দিল্লি থেকে এসেছে ঝাঁ চকচকে এসি লাক্সারি বাস। টিকিট কেটে এই বাসে চাপার ক্ষমতা আমাদের নেই। কিন্তু কোম্পানি নিজেদের স্বার্থে আমাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য এই বাসের ব্যবস্থা করেছে। এই সমস্ত শ্রমিকদের দিল্লি পাঠানোর দায়িত্বে রয়েছেন কালিয়াচকের ঠিকাদার কয়েক শেখ। তিনি বলেন, মূলত নির্মাণকাজে যোগ দেওয়ার জন্যই এই শ্রমিকরা দিল্লি যাচ্ছেন। নির্মাণকাজের বিভিন্ন বিভাগে যোগ দেবেন তাঁরা। শুধুমাত্র যাঁরা আগ্রহী তাঁদেরই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।