শ্রমিকদের ফেরত নিয়ে গেল বেঙ্গালুরুর সংস্থা

332

বিশ্বজিৎ সরকার, হেমতাবাদ : লকডাউন শিথিল হতেই গোটা দেশজুড়ে বিভিন্ন কারখানা খুলতে শুরু করেছে। আর কারখানা খুলতেই ঘরে ফিরে আসা ৩০ জন শ্রমিককে ফের কাজে নিয়ে গেল বেঙ্গালুরুর দুটি সংস্থা। শুধু তাই নয়, দিল্লি, মুম্বই, কর্ণাটক সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে বাস পাঠিয়ে উত্তর দিনাজপুর জেলার নয়টি ব্লক থেকেই নির্মাণশ্রমিক থেকে শুরু করে কারখানার কর্মীদের ফের পুরোনো কর্মস্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কোম্পানি থেকে শ্রমিকদের জন্য বাসও পাঠানো হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার শ্রমিককে এই জেলা থেকে ভিনরাজ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চলতি মাসের ১০ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে শ্রমিকদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পালা। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর দুটি কোম্পানি নিজেদের বাস পাঠিয়ে হেমতাবাদ ব্লকের বাঙালবাড়ি, চৌনগর, নওদা, গুটিন সহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে অন্তত ৭০ জন শ্রমিককে ফের নিজেদের কাজে নিয়ে গিয়েছে।

পুলিশ ও শ্রমিকদের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, লকডাউনে বেঙ্গালুরুতে বিভিন্ন কারখানা ও নির্মাণ সংস্থায় কর্মরত শ্রমিকরা তাড়াহুড়ো করে বাড়ি ফিরেছিলেন। ফলে বেসরকারি সংস্থাগুলির বরাত নেওয়া অনেক কাজ অসমাপ্ত রয়ে যায়। তাই লকডাউন শিথিল হতেই সংস্থাগুলি শ্রমিকের জন্য তাগাদা দিতে শুরু করে। শ্রমিকরা দ্রুত কর্মক্ষেত্রে না পৌঁছোলে আর কাজ মিলবে না, এমনকি বকেয়া মজুরির টাকাও মিলবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এখনও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। এই সমস্যার কথা শুনেই সেখানকার দুটি সংস্থা শ্রমিকদের নিয়ে যাওয়ার জন্য নিজেদের খরচায় বাস পাঠিয়ে দেয়। গতকাল রাতে সেই বাসে শ্রমিকরা পুরোনো কর্মক্ষেত্রে ফিরে যান। ওই শ্রমিকরা বেঙ্গালুরুতে বেসরকারি নির্মাণ সংস্থা এবং কাপড়ের পর্দা তৈরির কারখানায় ঠিকাশ্রমিকের কাজ করেন।

- Advertisement -

ভিনরাজ্যে ফিরে যাওয়া বাঙালবাড়ির এক শ্রমিকের ষাটোর্ধ্ব মা নুরনাহার বেগম বলেন, ভেবেছিলাম ছেলে বাড়িতে থেকে কিছু একটা করে রোজগার করবে। দুমাস বাড়িতে থাকল। কিন্তু কাজের উপায় হয়নি। তাই ভিনরাজ্যে ফিরে না গেলে না খেয়ে দিন কাটাতে হবে। ভিনরাজ্যে শ্রমিকদের ফিরে যাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন তৃণমূলের হেমতাবাদ ব্লক সভাপতি তথা উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতির স্বামী প্রফুল্ল বর্মন। তিনি বলেন, হেমতাবাদের প্রায় ২০ হাজার যুবক বিভিন্ন রাজ্যে মজুরের কাজে নিযুক্ত। লকডাউনে অন্তত ১২ হাজার শ্রমিক এলাকায় ফিরেছেন। বাকিরা নিজেদের কর্মক্ষেত্রেই রয়েছেন। দুদিন আগে কিছু শ্রমিক বেঙ্গালুরু ফিরে গিয়েছেন।