বিয়ের দাবিতে ৪ দিন ধরে ধর্নায় যুবতী, চাঞ্চল্য চাঁচলে

739

চাঁচল: গত দু’বছর ধরে প্রেম। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। কিন্তু বিয়ে করতে বর্তমানে নারাজ সেই প্রেমিক। তাই এবার ওই প্রেমিককেই বিয়ের দাবিতে গত চারদিন ধরে ধর্ণায় বসেছে যুবতী।

ঘটনাটি ঘটেছে, চাঁচল-১ ব্লকের অলিহন্ডা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কনুয়া গ্রামে। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। অভিযুক্ত যুবক মাসুম রেজা ও পরিবারের লোকজন সকলেই বাড়ি ছাড়া। মাসুম রেজা চাঁচলের একটি দোকানে কাজ করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই যুবতীর বাড়ি চাঁচল এলাকায়। তাঁরা চার বোন। ওই যুবতী বাবার কনিষ্ঠ কন্যা। বাবা পেশায় দিনমজুর, কোনোরকম খেটেখুটে সংসার চলে।

- Advertisement -

ছেলের বাড়িতে ধর্ণায় বসে থাকা যুবতী সাফ জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তার প্রেমিক এসে তাঁকে বিয়ে করছেন বা স্ত্রীর মর্যাদা না দিচ্ছেন ততক্ষন পর্যন্ত সে সেখান থেকে নড়তে রাজি নয়। তাঁকে বিয়ে না করলে জীবনটাই শেষ করে দিবেন।

মেয়েটির দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাসুম রেজা আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। একাধিকবার সহবাসও করেছেন। বিয়ে করার কথা বললেই সে এখন বেঁকে বসেছে। বিয়ে করতে নারাজ। তাই নিজের অধিকারের দাবিতে ছেলের বাড়িতে ধর্ণায় বসা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। মেয়েটি আরও দাবি করেন তাঁর কাছে যথেষ্ট প্রমানও রয়েছে।

গত বুধবার থেকে চারদিন ধরে ছেলের বাড়ির উঠোনে রাজরানীর মতো চেয়ারে বসে রয়েছে যুবতী। তবে লাপাতা বাড়ির সবাই। স্থানীয় সূত্রে খবর, ছেলে একমাস আগে বাড়ি ছেড়ে অন‍্যত্র চলে গেছে। মেয়ে বাড়িতে আসার পর তার বাবা-মা উধাও হয়ে গিয়েছে।

ওই যুবতী জানান, প্রায় দুই বছর আগে অসুস্থ দিদিকে নিয়ে চাঁচল হাসপাতাল মোড়ে এক ডাক্তারের চেম্বারে চিকিৎসা করতে নিয়ে যায়। সেখানেই ঔষধের দোকানের কর্মচারী মাসুম রেজার সাথে আলাপ হয়। সে আমার কাছে ফোন চেয়ে নেন। তারপর মাসুম আমায় নিয়মিত ফোন করে। এরপর একেঅপরের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে।

এমনকি সুযোগ বুঝে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে তাঁদের এমনটাই দাবী যুবতীর। রেস্তেরাঁ, পার্ক, এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি হয়েছে দুজনের। ছেলের বন্ধু ও আত্মীয়ের বাড়িতে একাধিকবার রাত্রিযাপণ করেছেন বলে সাফ দাবি যুবতীর।

যুবতী আরও জানায়, মাসুম রেজা আমাকে বিয়ে করতে রাজি আছে। তবে সে পরিবারের ভয়ে বিয়েতে হা করতে পারছে না। একসময় মাসুম আমাকে বলেছিল আমার পরিবার না মানলে তোমাকে আমার বাড়িতে এসে বসে যেতে হবে ধর্ণায়। মাসুমের কথা মতো সেই সিদ্ধান্তই নিয়েছে ওই যুবতী। কিন্তু এখন সে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

যুবতীর অভিযোগ, বেশ কয়েক মাস ধরে তাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে মেরাজ নামে ওই যুবকl ফোন করলে ফোন পর্যন্ত উঠায় না। বর্তমানে মোবাইলের সুইচ বন্ধ রয়েছে। কোনোরকম যোগাযোগ করতে পারছিনা তাঁর সাথে। নিজের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য একরকম বাধ্য হয়েই ধর্নায় বসেছি।

চাঁচল থানার আইসি সুকুমার ঘোষ বলেন, পুলিশের কাছে এই মর্মে কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি। যুবতীর তরফে অভিযোগ পেলে পুলিশ অবশ্যই তা খতিয়ে দেখবে।