অসহায় দম্পতির পাশে দাঁড়ালো যুব কংগ্রেস

164

সামসী: অসহায় দম্পতির পাশে দাঁড়ালো যুব কংগ্রেস। ওই দম্পতির নাম আফজাল আলি(৬৫) ও উজলেফা বিবি(৬১)। রতুয়া-২ ব্লকের শ্রীপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের চাতর গ্রামের বাসিন্দা তাঁরা। খবরের জেরে বুধবার ওই অসহায় দম্পতির বাড়িতে যান রতুয়া-২ ব্লক যুব কংগ্রেস নেতা মসিউর রহমান। তাঁদের হাতে একটি ত্রিপল, খাদ্য সামগ্রী হিসেবে চাল, ডাল, লবন, সাবান, চিনি তুলে দেন যুব কংগ্রেস নেতা। পাশাপাশি, চিকিৎসার খরচ হিসেবেও সামান্য কিছু আর্থিক অনুদান তুলে দেন ওই দম্পতির হাতে।

ভাঙাচোরা বাড়িতে অসহায়ভাবে বসবাস করছেন ওই ষাটোর্ধ্ব দম্পতি। তাঁদের দুই মেয়ে রয়েছে। বড়ো মেয়ে খতিজা বিবির বিয়ে হয়েছে খানপুরে এবং ছোট মেয়ে রেখা খাতুনের বিয়ে হয়েছে খেড়িয়া গ্রামে। দুই মেয়েই বিয়ের পর বেশিরভাগই শশুর বাড়িতেই থাকেন। আফজাল আলি চার বছর ধরে প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত। ঠিকমতো চলা ফেরা করতে পারেন না। মা উজলেফা বিবিও তিন বছর ধরে অসুস্থ। সেও হাটাচলা করতে পারেন না। খুব অসহায়ভাবে সীমাহীন কষ্টের মধ্যে বসবাস করছেন তাঁরা। তাঁদের দেখাশুনা করার কেউই নেই। দুই মেয়েই মাঝে মধ্যে দেখাশুনা করে থাকেন। ওই বাড়িতে রয়েছে দুটি শোবার ঘর। নীচে বাঁশের বেড়া ও উপরে টালি। কিন্তু ইয়াস ঝড়ে উড়ে গিয়েছে একটি ঘরের চালা। সম্প্রতি কালবৈশাখীতেও রান্নাঘরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই একটু আধটু বৃষ্টি হলে বাকি শোবার ঘরটিতে জল পড়ে ভিজে যায়। একসময় দিনমজুরি করে সংসার চলত। এখন দুজনই অচল। তিনবেলা খাবার জোটেনা ভাগ্যে। তার ওপর দুজনের চিকিৎসা খরচও রয়েছে। মাঠে এক কাঠাও জমি জায়গা নেই। মাত্র এক কাঠা বাস্তু ভিটেই সম্বল।

- Advertisement -

অসহায় বৃদ্ধা আফজাল আলি জানান, এখনও পর্যন্ত স্বামী স্ত্রী দুজনেরই বার্ধক্য ভাতা মেলেনি। বহুবার আবেদন করেছি। শেষবার দুয়ারে সরকারেও ভাতা ও একটি পাকা ঘরের জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু তবুও হয়নি। তিনি বলেন, ‘স্বামী স্ত্রী দুজনের ভাতা ও পাকা ঘরটি পেলে শেষ বয়সে হয়ত কিছুটা সুখে কাটাতে পারতাম। কিন্তু সেটাও কপালে জোটেনি আজও। এনিয়ে চরম আক্ষেপ হয় ওই অসহায় দম্পতির।’ যুব কংগ্রেস নেতা মসিউর রহমান বলেন, ‘প্রয়োজনে তাঁদের আরও সাহায্য করা হবে। তাঁদের দু’জনের বার্ধক্য ভাতা চালু এবং যাতে আবাস যোজনা থেকে একটি পাকা ঘর পান সে বিষয়টিও বিডিও সাহেবকে বলা হবে।’