ছেলে ধরা সন্দেহে যুবককে গণধোলাইয়ের অভিযোগ

213

রায়গঞ্জ: ছেলে ধরা সন্দেহে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে গণধোলাই করার অভিযোগ উঠল। শুক্রবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে রায়গঞ্জ থানার মারাইকুড়া গ্রামে। রায়গঞ্জ থানার পুলিশের তৎপরতায় ওই যুবককে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জখম ওই যুবকের নাম হারুন রশিদ (১৯) বাড়ি মালদা জেলার হরিশচন্দ্রপুর (২)। ভিডিও রেকর্ড দেখে সাইবার ক্রাইমের সাহায্য নিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হবে। গুরুতর জখম ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে ওই ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন। আট দিন আগে বাড়ি থেকে ওই যুবক নিখোঁজ হয়ে যায়। এদিন সকালে মারাইকুরা এলাকায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা ছেলেধরা সন্দেহে পাকড়াও করে বেধড়ক মারধর করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মারাইকুরা এলাকায় একাধিক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যহীনভাবে গভীর রাত পর্যন্ত ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তাদের সন্দেহ হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে সকালে ছুটে যান সেখানে। ওই যুবক সেখান থেকে ছুটে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে গ্রামবাসীরা ধরে ফেলেন।

ওই যুবকের বাড়ি মালদা জেলার হরিশচন্দ্রপুর হলেও কি কারণে এই এলাকায় এসেছিল তা স্পষ্টভাবে বলতে পারেন নি। তাই ছেলে ধরা সন্দেহে তাকে গণধোলাই দেওয়া হয়। ছেলে ধরা সন্দেহে জেলাবাসীকে সচেতন করতে পুলিশ সোশ্যাল মিডিয়া সহ অন্যান্য মাধ্যমে প্রচার চালালে সেই প্রচার যে কখনও গ্রামীণ স্তর পর্যন্ত পৌঁছোয় না এদিনের ঘটনা ফের তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। জখম যুবকের বাবা আজিজুর রহমান বলেন, ‘এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ছেলেকে চোর সন্দেহে মারধর করছে বলে দেখতে পাই। সঙ্গে সঙ্গে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পুলিশ আমার ছেলেকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করে।’ এদিন রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে জখম যুবকের পরিবার ডিআরবি নিয়ে জখম যুবককে সঙ্গে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পুলিশ সুপার সুমিত কুমার বলেন, ‘সাইবারক্রাইম অফিস বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। রায়গঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।’

- Advertisement -