আমপানের ত্রানে দু-একটা ভুল হতেই পারে, তা বলে আমি চোর নই: মমতা

211

কলকাতা: রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচনের প্রচার পর্ব শেষ হচ্ছে আজ। বৃহস্পতিবার চারটি জনসভা করবেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম জনসভা দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার কলেজ গ্রাউন্ডে সভা। দ্বিতীয় জনসভা সাগর বিধানসভার গঙ্গাসাগর মেলার মাঠে। তৃতীয় প্রচার সভা পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন বিধানসভা কেন্দ্রে। আর চতুর্থ জনসভা মেদিনীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিড়লা মাঠে।

এদিনও পাথরপ্রতিমা ও সাগরের সভামঞ্চ থেকে তৃণমূল সুপ্রিমোকে ‘রনংদেহী’ রুপে দেখা যায়। এদিনও পাথরপ্রতিমার জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা অভিযোগের সুরে বলেন, আমপান পরবর্তী পরিস্থিতিতে ত্রাণের অর্থ পাইনি। কেন্দ্রের যে সর্বদাই রাজ্যের প্রতি বঞ্চনার এক মুখ তা এদিন একপ্রকার অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্গত মানুষের সাহার্যার্থ্যে কার্পণ্য করেনি তৃণমূল। আমপানের পরে ১০০০ কোটি টাকা দিয়েছে কেন্দ্র। এটা কার টাকা? মাছের তেলে মাছ ভাজা! এক টাকাও দেয়নি। এত বড় দুর্যোগে একটা-দুটো ভুল তো হতেই পারে। আমপানের পর রাজ্য ৭০০০ কোটি টাকা দিয়েছে। ২১ লক্ষ বাড়ি তৈরির জন্য ২০০০ কোটি টাকা দিয়েছে রাজ্য।’ এদিন মমতা এও অভিযোগ করেন, ‘পিএম কেয়ার্সের নামে টাকা তুললেও কেউ টাকা পায়নি।’

- Advertisement -

এদিন সংযুক্ত মোর্চার সম্পর্কে বলতে গিয়ে মমতা বলেন, ‘সিপিএম, কংগ্রেস মানেই বিজেপি। যে সংখ্যালঘু বলছে সে বিজেপির থেকে প্রচুর টাকা নিয়েছে। কেউ টাকা দিলে বলবেন এতো আমার ট্যাক্সের টাকা। বলবেন খরচের টাকা দাও, তোমায় খরচা করে দেব। আমার তো একটা পায়ে চোট। মা-বোনেরা দুটো পা দিয়ে আমাকে এগিয়ে দেবে। ভাঙা পায়েই যা খেলব না, বিজেপিকে বোল্ড আউট করে দেব।’

মমতা বলেন, ‘অন্যায় করলে থাপ্পড় দেবেন। এই নির্বাচন দিল্লির নয় বাংলা। বাংলায় যে উত্তরপ্রদেশের লোকেরা থাকে, তাঁদের বহিরাগত বলি না। বিজেপি বাইরে থেকে গুন্ডা আনাচ্ছে। এবার পড়ুয়াদের জন্য ১০ লক্ষ টাকার ক্রেডিট কার্ড। পড়াশোনার খরচের জন্য ক্রেডিট কার্ড থেকেই খরচা করবে। বিদেশে পড়াশানো করে বাংলায় ফিরে আসবে পড়ুয়ারা।ক্ষুদ্র শিল্পে আরও ১ কোটি ৩২ লক্ষ কর্মসংস্থান হবে। বছরে দুবার করে চারমাস দুয়ারে সরকার হবে।’

সাগর বিধানসভার গঙ্গাসাগর মেলার মাঠের জনসভায়ও বিজেপিকে নিশানা মমতার।  তিনি বলেন, ‘ভোটের আগে রাজ্য পুলিশ কমিশনের অধীনে থাকলে কেন্দ্রীয় পুলিশ কেন থাকবে না। এদের দিয়ে এলাকায় এলাকায় টাকা বিলি করাচ্ছে। কেন নাকা চেকিং হচ্ছে না?’

এদিন তিনি তাঁর ভাঙা পায়ের কথা উল্লেখ করে জানান, তাঁর দল তাকে মিটিংয়ের সংখ্যা কমানোর জন্য অনেকবারই বলেছে। কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি। তিনি দলকে জানিয়েছেন তাঁর একটা পা আছে, তাতে কি হয়েছে। বাংলার মা-বোনেদের দুটো করে পা আছে। সেই দুটো করে পায়ের উপর ভর দিয়ে তিনি নির্বাচনি বৈতরণী পার হবেন। শুধু তাই নয় তিনি এদিন জোর গলায় বলেন, ‘সেই ভাঙা পায়েই যা খেলব তাতে বিজেপিকে বোল্ড আউট করে মাঠের বাইরে বের করে দেব।’

সেইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে জেতার জন্য ভিন রাজ্য থেকে গুন্ডা আনা হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ থেকে। কপালে একটা করে তিলক কেটে সবাই বিজেপি হয়ে যাচ্ছে। তাই তাদের থেকে রাজ্যবাসীকে সাবধান হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

তিনি রাজ্যের শিল্পায়নে অগ্রগতির ব্যাপারে জনসমক্ষে তুলে ধরতে গিয়ে জানান, রাজ্যে ১ কোটি ৩২ লক্ষ মানুষ ক্ষুদ্র শিল্পে কাজ করছে। আর এবারের নির্বাচনে জিতলে আরও ১ কোটি ৩২ লক্ষ মানুষের জন্য চাকরির জন্য ক্ষুদ্র শিল্পের প্রসার ঘটাবেন তিনি। এদিন তিনি পাথরপ্রতিমায় তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রেখেই সোজা চলে যান সাগরদ্বীপে। সেখানে রয়েছে তাঁর অপর একটি জনসভা।