ডুয়ার্সজুড়ে জমি থাকলেও নথি নেই, উদ্বেগ বাড়ছে বাসিন্দাদের

210

শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা : দশকের পর দশক ধরে ডুয়ার্সে গড়ে উঠেছে হাটবাজার। চা বলয়ের একেকটি এলাকা বর্তমানে গঞ্জ থেকে পরিণত হয়েছে আধাশহরে। এমনকি কলেবরে বেড়ে স্ট্যাটাসে শহরের সঙ্গেও পাল্লা দিতে প্রস্তুত একাধিক জনপদ। বাড়ি-দোকান তৈরি করে কয়েক পুরুষ ধরে সেসব স্থানে বসবাস করছেন হাজার হাজার বাসিন্দা। যদিও এখনও পর্যন্ত বাস্তুভিটে বা দোকানের জমির কোনও পাট্টা বা লিজ নেই তাঁদের।

চামুর্চি রোডের পাশে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বারলা ভবন নির্মাণ করছেন। যে জমির ওপর ওই ভবনটি তৈরি হচ্ছে সেটি জবরদখল করা হয়েছে এমন অভিযোগে সম্প্রতি সরব হয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এই হইচইয়ের ঢেউ পৌঁছেছে দেশের রাজধানীতেও। এরপরই দখলে থাকা জমি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে ডুয়ার্সের বিভিন্ন বন্দর এলাকার বাসিন্দাদের। ওই সমস্ত জমির পাট্টা-লিজের দাবিতে নতুন করে সরব হয়েছেন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সামাজিক নানা মহল।

- Advertisement -

জলপাইগুড়ি জেলায় ডুয়ার্সের যে অংশ রয়েছে, তা পশ্চিমদিক বরাবর। শুরু বাগ্রাকোট থেকে। শেষ হয়েছে তেলিপাড়ায়। এরপরই আলিপুরদুয়ার জেলার সীমানা। বাগ্রাকোট থেকে তেলিপাড়ার এই মাঝের অংশে রয়েছে ওদলাবাড়ি, ডামডিম, মালবাজার, চালসা, মেটেলি, নাগরাকাটা, লুকসান, বানারহাট ও বিন্নাগুড়ির মতো আড়েবহরে ক্রমশ বাড়তে থাকা নানা স্থান। ওইসব এলাকার পাড়া, কলোনি, বস্তি বা গ্রামীণ এলাকায় অনেকের হাতে জমির কাগজপত্র দেওয়া হলেও মূল সমস্যা বাজার এলাকাগুলিকে নিয়ে সেগুলির কোনওটি গড়ে উঠেছে চা বাগানের মৌজায়, কোনওটি আবার পূর্ত, রেল বা জেলা পরিষদের জমির ওপর। কোথাও জমির চরিত্র মিশ্র। হাতে কোনও নথিপত্র না থাকায় এর জেরে বহু মানুষ বাড়ি তৈরি কিংবা ব্যবসার জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ পান না। জমির কাগজ দরকার হয় এমন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে বা বিমার টাকা পেতেও গলদঘর্ম হতে হয় তাঁদের।

বানারহাট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক অশোক কনসাল বলেন, এখানকার বাজার বানারহাট ও গ্যান্দ্রাপাড়া চা বাগানের জমির ওপর গড়ে উঠেছে বলে শুনেছি। ওদলাবাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক তপন ঘোষ বলেন, হাট বসে জেলা পরিষদের জমিতে। বেশিরভাগেরই জমির মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র নেই। পঞ্চায়েত-প্রশাসন এ ব্যাপারে যাতে উদ্যোগী হয় এমন অনুরোধ বহুবার জানানো হয়েছে। একই কথা চালসা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক জীবন ভৌমিকেরও। নাগরাকাটা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পবন পোদ্দার বলেন, বাজারের ব্যবসায়ীরাই শুধু নন। এলাকার একাধিক পাড়ার বাসিন্দাদের দখলে থাকা জমিরও কোনও আইনি স্বীকৃতি নেই।

জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ গণেশ ওরাওঁ অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন, খাসজমির পাট্টা প্রদানে উদ্যোগ নেওয়া হবে। জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দুলাল দেবনাথও একই আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, ডুয়ার্সের প্রতিটি এলাকার জমির চরিত্র নিয়ে একটি রিপোর্ট তৈরি করতে বলা হবে জেলা প্রশাসনকে।

মালবাজারের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা আদিবাসী বিকাশ পরিষদের রাজ্য কমিটির কার্যনির্বাহী সভাপতি তেজকুমার টোপ্পো বলেন, ডুয়ার্সে যে বাজারগুলি গড়ে উঠেছে, সেইসব জমির আসল মালিক কে, সেটাই কারও জানা নেই। প্রশাসন পাট্টা বা লিজ দিলে সরকারেরও রাজস্ব আদায় হবে, আবার বাসিন্দাদেরও দুশ্চিন্তার অবসান হবে।