ফল পাড়ার শ্রমিক নেই, বিধিনিষেধে নষ্ট হচ্ছে আম

178

রেজাউল হক, পুরাতন মালদা : গাছে আম আছে। কিন্তু সেই আম পাড়ার শ্রমিক পাচ্ছেন না চাষিরা। কোনওরকমে গাছ থেকে যদিও বা আম নামানো যায়, তা বিক্রি হচ্ছে না। সকাল থেকে বসে থাকলেও লাভ নেই। খদ্দের নেই। ৭০-৮০ টাকা কিলোর আম ১৭-১৮ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে না। করোনা সংক্রমণের মধ্যে লকডাউন পরিস্থিতিতে এখন চরম বিপাকে পুরাতন মালদার কয়েকশো আমচাষি ও ব্যবসায়ী।

পুরাতন মালদার বিজেপি বিধায়ক গোপাল সাহা বলেন, লকডাউন পরিস্থিতিতে আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা চরম সংকটে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছি। চাষি ও ব্যবসায়ীরা যাতে আমের মার্কেটিং করতে পারেন, তার জন্য রাজ্য সরকারকে কিছু ব্যবস্থা নিতে হবে। লকডাউন পরিস্থিতিতেও যাতে ভিনরাজ্যে আম রপ্তানি করা যায়, তার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাব।

- Advertisement -

উল্লেখ্য, গত বছর থেকেই আম বিক্রিতে লোকসান চলছে আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের। মজুত আম বেশিদিন রাখা যাচ্ছে না। দ্রুত পচন ধরে যাওয়ায় অনেক চাষি ও বিক্রেতা আম ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে আবার সেই আম গবাদিপশুদের খাইয়ে দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে ১৫ জুন পর্যন্ত বিধিনিষেধ জারি করেছে রাজ্য সরকার। আর তাতেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পুরাতন মালদার বিভিন্ন এলাকার আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা।

আমচাষি নুরুল শেখ বলেন, কারও আট বিঘা, কারও ১০ বিঘা করে আমের বাগান রয়েছে। আমের ফলন হয়েছে ভালো। কিন্তু লকডাউনের মধ্যে গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না। বাইরের জেলা কিংবা ভিনরাজ্যে আম রপ্তানি করা যাচ্ছে না। খদ্দেরের অভাবে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে সুস্বাদু অনেক প্রজাতির আম। লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।  এই পরিস্থিতিতে আমরা সরকারের সহযোগিতা চাইছি। একই বক্তব্য ডাকু সরকার, রাজেন রাজবংশীদেরও।

উদ্যানপালন দপ্তরের উপ অধিকর্তা কৃষ্ণেন্দু নন্দন জানান, অনুকূল আবহাওয়ায় এবার মালদায় আমের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা। ইতিমধ্যে বাজারে গোপালভোগ, লক্ষ্মণভোগ, গোলাপখাস সহ বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু আম উঠতে শুরু করেছে। আশা করা হচ্ছে, এবার জেলায় প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে।

উদ্যানপালন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদা জেলায় প্রায় ৩১ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়। ইতিমধ্যে গোপালভোগ, গোলাপখাস, লক্ষ্মণভোগ, হিমসাগর সহ বিভিন্ন প্রজাতির আম বাজারে চলে এসেছে। যেগুলি ১৫ থেকে ১৮ টাকা কিলো দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ এসব জাতের আমের দাম প্রতি বছর ৭০ থেকে ৮০ টাকা কিলো হয়ে থাকে। করোনা সংক্রমণ এবং বিধিনিষেধ পরিস্থিতিতে এই অবস্থা বলে মনে করা হচ্ছে।

বিধায়ক গোপাল সাহা বলেন, গত বছর থেকেই করোনা ও লকডাউনে মার খাচ্ছেন চাষি এবং ব্যবসায়ীরা। এদিন আটমাইল হাট এলাকায় আম ব্যবসায়ী ও চাষিদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের সমস্যার কথা শুনেছি। কেউ বাইরে আম রপ্তানি করতে পারছেন না। পাইকাররাও ভিনরাজ্য থেকে আসতে পারছেন না। গাড়ি চলাচলের একটা সমস্যা রয়েছে। অনেকেই বলছেন, এমন সংকটজনক পরিস্থিতি চলতে থাকলে আত্মহত্যা করা ছাড়া পথ নেই। এনিয়ে সরকার ও প্রশাসনের ভাবা উচিত। দলের পক্ষে আমি রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করব।

মালদা ম্যাঙ্গো মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উজ্জ্বল সাহা বলেন, পরপর করোনা সংক্রমণ এবং লকডাউনের জেরে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন আমচাষিরা। গত বছর থেকেই লোকসান চলছে। এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সংগঠনের তরফে চিঠি লিখে জানানো হয়েছে। আমরা চাই, আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানে সরকার এগিয়ে আসুক। লকডাউনের মধ্যে তাদের ভিনরাজ্যে আম রপ্তানি করার সুযোগ করে দেওয়া হোক।