সরকারি অনুদান নেই, কাজ না পেয়ে চরম হতাশায় পরিযায়ী শ্রমিকেরা

690

রায়গঞ্জ: লকডাউনের শুরুতে ভিন রাজ্য থেকে বাড়ি ফিরেছে। বাড়ি ফিরতে গিয়ে গাড়ি ভাড়া গুনতে হয়েছে অনেক টাকা। এরা কেউ কাজ করতেন কেরালায়, কেউ আবার দিল্লিতে। আবার কেউ রাজস্থানে। গ্রামের অধিকাংশ যুবকই কাজ করতেন ভিন রাজ্যের বিভিন্ন কেবল লাইন সংস্থায়। কাজ ছেড়ে আট মাস আগে গ্রামে ফিরলেও সরকারের প্রতিশ্রুতি মতো জুটছে না কোনো আর্থিক অনুদান। ফলে পরিবার নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছেন গ্রামের শতাধিক পরিযায়ী শ্রমিক। রায়গঞ্জ ব্লকের ৯ নং গৌরী গ্রাম পঞ্চায়েতের এলেঙ্গিয়া গ্রামে গেলেই দেখা যাবে পরিযায়ী শ্রমিকদের হাহাকার।

এলেঙ্গিয়ার ইকবাল ফারুক, সুকু শেখ, আজাহারউদ্দীন হক, মেহবুব আলমসহ আরও অনেকেই গ্রামে ফিরে এসেছেন। প্রত্যেকেই ভিন রাজ্যে শ্রমিকের কাজ করতেন। মাসে কারো আয় ছিল ২৫ হাজার, আবার কারো ২০ হাজার। ইকবাল ফারুখ জিও কেবল লাইনের কাজ করতেন কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে। আট মাস আগে বাড়িতে ফিরে এসেছেন। তাঁর দাবি, ‘এখানে কোনো কাজ নেই। বেকার হয়ে বসে আছি। সরকার থেকে একবার ১০ কেজি করে চাল ও ডাল দিয়েছিল। বলেছিল এক হাজার টাকা সরকারি অনুদান দিবে, তাও পাইনি।‘

- Advertisement -

একই অভিযোগ পরিযায়ী শ্রমিকের সুকু শেখের। সে শ্রমিকের কাজ করতেন চেন্নাইতে। লকডাউনের শুরুতে বাড়ি ফিরে এসেছেন। তাঁর দাবি, নয় মাস আগে বাড়ি ফিরে এসেছি। কিন্ত কোনো কাজ নেই। বৃদ্ধ মা, বাবা ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনুদান দেওয়ার কথা বলা হলেও কোনো কিছুই পাচ্ছি না।

পরিযায়ী শ্রমিক আজাহারউদ্দিন হক গ্রামে ফিরে এসে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। লকডাউনে গ্রামে ফিরে এসেছেন। তাঁর অভিযোগ, ‘শুধুমাত্র একবার চাল ও ডাল পেয়েছি। কোনো আর্থিক অনুদান পাইনি।‘

মেহবুব আলম কাজ করতেন উড়িষ্যায়। লকডাউনের শুরুতে অনেকের সঙ্গে মোটা টাকা খরচ করে গ্রামে ফিরেছেন। কিন্ত গ্রামে কোনো কাজ নেই। হতাশ মেহবুব জানায়, ‘অনুদানের জন্য সরকারের কাছে কাগজপত্র জমা দিয়েছি। কিন্তু কোনো টাকা পাইনি।’

এলেঙ্গিয়ার যুবক শোয়েব আখতার মুম্বাইয়ে কেবল সংস্থায় কাজ করতেন। তাঁর দাবি, সেখানে প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা আয় হত। এখানে কোনো কাজ নেই। এদিক-ওদিক কাজকর্ম করে কোনোক্রমে তাঁর সংসার চলছে। আর ফিরে যেতেও পারছি না। গ্রামে যে কাজ নেই তা সবাই স্পষ্ট করে বলেছেন। সেইসঙ্গে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি মতো কোনো অনুদান তাঁরা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তাদের।

গৌরি গ্রাম পঞ্চায়েতের এলেঙ্গিয়া বুথের ১০০ দিনের কাজের সুপারভাইজার মহম্মদ রফিক জানান, অতিমারির কারনে অনলাইনে ফর্ম জমা দিতে পারেনি অনেকে। ফলে গ্রামের অনেকেই সরকারি অনুদান পাননি। গ্রামের ১৪০ টি পরিবারের পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম বিডিও অফিসে জমা দেওয়া আছে। অনেকেই অনুদান পেয়েছেন। আশা করি আগামীতে প্রত্যেকেই পাবেন।