শিক্ষক না থাকায় পড়াশোনা বন্ধ মাদ্রাসায়

362

রায়গঞ্জ, ২৪ অক্টোবরঃ শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় শিক্ষার অঙ্গন থেকে বঞ্চিত পড়ুয়ারা। পাট আর পাটকাঠির স্তুপ, রয়েছে আখের শুকনো ডাল। উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ ব্লকের ভাতুন গ্রাম পঞ্চায়েতের তাজপুর তাজবাজ জুনিয়র হাই মাদ্রাসা রূপ নিয়েছে কৃষি খামারের। এখানে পড়ুয়ারা আসেনা। ক্ষুদে ছাত্র-ছাত্রীরা পঠন-পাঠনের বদলে পাড়ি দিয়েছে ভিন রাজ্যে শ্রমিকের কাজে। এই বিষয়ে উত্তর দিনাজপুর পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা তৃণমূল শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক আব্দুল সাকিল বলেন, ‘২০১১ সালে জেলায় মাদ্রাসা হওয়ার কথা ছিল। সেখানে ইটাহারের দুটি মাদ্রাসা চালু রয়েছে। রায়গঞ্জের ভাতুন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ক্লাস ঘর নির্মাণ হলেও শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ার জন্যই মাদ্রাসাটি চালু করা যায়নি।’ এই নিয়ে বৃহস্পতিবার উত্তর দিনাজপুর জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) নিতাই দাসকে ডেপুটেশন দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সদস্যরা। তাঁদের বক্তব্য, ‘অসম্পূর্ণ মাদ্রাসাগুলিকে সম্পূর্ণ করার কাজের পাশাপাশি এসএসকে এমএসকে মাদ্রাসাগুলিকে বোর্ডের আওতায় আনা হোক।’ উত্তর দিনাজপুর জেলা স্কুল পরিদর্শক (মাধ্যমিক) নিতাই দাস বলেন, ‘আমি সবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। যেসব স্কুল বা মাদ্রাসা চালু করা যায়নি যাতে দ্রুত পঠন-পাঠন চালু করা যায় তার জন্য আমি এলাকা পরিদর্শন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’

মাদ্রাসা নির্মাণ সম্পূর্ণ হওয়ার পর নয় বছর অতিক্রান্ত। শিক্ষক নিয়োগও হয়েছিল সেখানে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শিক্ষকেরা যোগদান না করায় প্রায় নয় বছর ধরে জুনিয়র হাই মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে রয়েছে। পড়ুয়ার বদলে বর্তমানে মাদ্রাসার ক্লাস ঘরে শস্য সামগ্রীতে ভরতি। সবমিলিয়ে পড়ুয়াদের ক্লাসরুম বর্তমানে গুদামঘরে পরিণত হয়েছে। বস্তুত, উত্তর দিনাজপুর জেলায় জুনিয়র হাই মাদ্রাসা গড়ার লক্ষ্যে ভাতুন গ্রাম পঞ্চায়েতের তাজপুর এলাকায় জমিও সংগ্রহ করা হয়েছে। জমিদাতারা মাদ্রাসা গড়ার কাজে জমিও দান করেন। শিক্ষা দপ্তরের তৎপরতায় পর্যাপ্ত টাকা বরাদ্দ করা হয়। মাদ্রাসা গড়ার নির্মাণ কাজও শুরু হয়। কাজ সম্পন্ন হলেও এলাকায় যাদের শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে মাদ্রাসা গড়া হয়েছিল তা এত বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি। রায়গঞ্জ ব্লকের উত্তর সার্কেলের অবর পরিদর্শক কল্যাণী ওঁরাও বলেন, ‘২০১০ সালে ওই মাদ্রাসার অনুমোদন হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে শিক্ষক যোগদান না করার ফলে মাদ্রাসা চালু করা যায়নি। ফলে ছাত্রছাত্রীরাও এখন আর আসে না।’ স্থানীয়দের বক্তব্য, ‘কাছেপিঠে এলাকার সকল ছাত্রছাত্রীদের যাতে স্কুল অথবা মাদ্রাসার অঙ্গনে আনা যায় তার জন্য ২০০৯ সাল থেকে জুনিয়র হাই স্কুলের পাশাপাশি জুনিয়র হাই মাদ্রাসা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। জুনিয়র স্কুল একাধিক জেলাজুড়ে হলেও রায়গঞ্জ ব্লকে আজ পর্যন্ত একটিও জুনিয়র হাই মাদ্রাসা তৈরি হল না। এর ফলে এলাকায় মাদ্রাসার শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী ছেলেমেয়েরা নূন্যতম পঠন-পাঠন থেকে বঞ্চিত হয়েছে রয়েছে। জমি জটের জন্য জেলার আটটি মাদ্রাসার মধ্যে শুধুমাত্র ইটাহারে দুটি মাদ্রাসা চালু করা গেলেও বাকি মাদ্রাসা তৈরি করা যায়নি।’

- Advertisement -