পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি : কালিম্পং জেলার নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যানে যে ২টি বাঘের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে তা এবার জানাল রাজ্য বন দপ্তর। নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যানের উপর দ্বিতীয় দফার জীববৈচিত্র‌্যের সমীক্ষার প্রকাশিত রিপোর্টে বন দপ্তর এই দাবি করেছে। যার মধ্যে একটি পুরুষ এবং একটি স্ত্রী বাঘের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলেও রিপোর্টে জানানো হয়েছে। নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যানে ২০১৬ সাল থেকে বাঘের ঘোরাফেরার খবর পাচ্ছিল বন দপ্তর। ভিডিয়ো ট্র‌্যাপ ক্যামেরা পাতার পর ২০১৭ সালে নেওড়ার ২২৫০ মিটার থেকে ২৬০০ মিটার উচ্চতায় এই দুটি বাঘের ছবি ধরা পড়ে। ক্যামেরায় ধরা পড়া অনেকগুলি ছবি বিশ্লেষণ করে একটি পুরুষ ও অপরটি স্ত্রী বাঘ বলে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

নেওড়ার এই জীববৈচিত্র‌্যের সমীক্ষার টিম লিডার ছিলেন বন্যপ্রাণ বিভাগের উত্তরবঙ্গের প্রধান বনপাল উজ্জ্বল ঘোষ। নেওড়ার পাহাড়ি দুর্গম, চড়াই উতরাই অঞ্চলে সমতলের মতো সরাসরি দেখে বাঘের শুমারি করা কঠিন কাজ। তাই ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। বাঘের পাশাপাশি বিলুপ্তপ্রায়, বিরল অনেক বন্যপ্রাণীর ছবিও ধরা পড়েছে। তবে, নেওড়ায় প্রথম ২০১৭ সালে গাড়িচালক আনমোল ছেত্রীর ক্যামেরায় বাঘের ছবি ধরা পড়েছিল। সেইসঙ্গে নেওড়ায় বসানো ক্যামেরায় ওঠা ছবি নিয়ে মিডিয়ায় অনেক লেখালেখি হলেও বাঘ যে নেওড়ায রয়েছে তা নিয়ে বন দপ্তর একটি কথাও খরচ করেনি। কিন্তু এবারই প্রথম নেওড়ায় ২টি বাঘ রয়েছে বলে রাজ্য বন দপ্তর দাবি করেছে। সুন্দরবনের পর উত্তরবঙ্গের নেওড়াতে বাঘের অস্তিত্ব রয়েছে দাবি করায় নেওড়া নিয়ে বন দপ্তরের অনেক পরিকল্পনা করার সুযোগ এল। বাঘের সঙ্গে অন্য বন্যপ্রাণীর মধ্যে বিলুপ্তপ্রায় ক্লাউডেড লেপার্ড, জঙ্গল ক্যাট, মারবেলড ক্যাট, গোল্ডেন ক্যাট, বন্য কুকুর, হিমালয়ান গোরাল, হিমালয়ান শেরো, হিমালয়ান কাঠবেড়ালি, কালো বড়ো কাঠবেড়ালিরও অস্তিত্ব ধরা পড়ে।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশমন্ত্রক সারাদেশে বাঘ শুমারির রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তাতে নেওড়ার উল্লেখ ছিল না। কিন্তু বক্সাতে বাঘ নেই তা জানিয়েছিল কেন্দ্র। রাজ্য বন দপ্তরের উত্তরবঙ্গের অতিরিক্ত প্রধান মুখ্য বনপাল বিপিনকুমার সুদ বলেন, কেন্দ্রের বাঘ শুমারির রিপোর্টে বাঘের উল্লেখ না থাকাটাই স্বাভাবিক। কারণ নেওড়াতে বাঘ শুমারি হয়নি। এনটিপিসির সম্মতি লাগে। বিভিন্ন পদ্ধতিগত বিষয রয়েছে বাঘ শুমারির ক্ষেত্রে। তিনি জানান, নেওড়ার মতো ১০ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় বাঘ শুমারি করতে অনেক ট্রেক করতে হবে। খাদ্যসামগ্রী বহন করাও কষ্টসাধ্য। তবে, নেওড়ার মতো ভার্জিন জঙ্গল রয়েছে। এর উপর আমরা জীববৈচিত্র‌্যের সমীক্ষা করছি। যা দেশের ফরেস্ট পলিসি করার ক্ষেত্রে কাজে আসবে। আমরাও নেওড়া নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করছি সেখানকার জীব, বন্যজন্তু, গাছপালা কী করে আরও সুরক্ষিত রাখা যায়। নেওড়া ভুটান, সিকিম এবং বাংলা সীমান্তে অবস্থিত জলপাইগুড়ি গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগ থেকেই পরিচালনা করা হয়। প্রচণ্ড ঠান্ডায় নেওড়ার বাঘ পাশের অন্য বনাঞ্চলে যেমন চলে যায়, তেমনি নেওড়াতেও করিডর করে যাতায়াত করে। এবার রাজ্যের তৃতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্প নেওড়া হয়ে উঠতে পারে কিনা সেটাই দেখার।