শহরে নেই বিগ বাজেটের পুজো, মন খারাপ টোটো চালকদের

467

দিনহাটা: বাঙালির শ্রেষ্ঠ পার্বন দুর্গাপুজো। স্বাভাবিকভাবে পুজোকে ঘিরে বাঙালির পরিকল্পনাও কিছু কম থাকে না। আর এই পরিকল্পনার একটি অন্যতম অংশ প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে গিয়ে প্রতিমা দর্শন। পুজোর এই কয়েকটাদিন বাঙালির কাছে রাতদিনের হিসেব, খুব একটা থাকে না। তাই গভীর রাত হলেও শহরের প্যান্ডেলগুলিতে থাকে দর্শনার্থীদের লম্বা লাইন। তবে দর্শনার্থীদের প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে পৌঁছে দেওয়ার কাজটা করেন শহরের টোটো চালকরাই। আর সেকারণে পুজোর কয়েকটা দিন তাদের কাছে বাড়তি রোজগারের অন্যতম উৎস। তাই পুজো এলেই এক আলাদা খুশিতে মাতোয়ারা হন তাঁরা।

তবে এবছর করোনার কারণে দিনহাটা মহকুমার অধিকাংশ বিগ বাজেটে পুজো কমিটিগুলি অনারম্বর পুজো করবে বলেই জানিয়েছে। এবং সেইমতো চলছে আয়োজনও। আর এরফলে প্রতিবছর যেভাবে অন্যান্য জেলার পাশাপাশি স্থানীয় দর্শনার্থীরা পুজো মন্ডপগুলিতে ভিড় জমান। সেই দৃশ্য এবছর দেখা মিলবে না বলেই মনে করছেন শহরের টোটোচালকরা। আর তাই পুজো এলেও তাদের মুখের চির পরিচিত হাসিটা যেন ভো-কাট্টা হয়ে গেছে।

- Advertisement -

টোটো চালক রমেন বর্মন জানান, দিনহাটা প্রশাসন সাধারণ রাত ১২-১ টার পর টোটো বের করার অনুমতি দেন। দর্শনার্থীরা তাদেরকে আগে থেকে ফোনে যোগাযোগ করে বুক করে দেয়। তারপর চলে মন্ডপে মন্ডপে ঘোরা।

রমেন বাবুর কথায়, দিনহাটার পুজো মন্ডপগুলির দূরত্ব বেশি না হওয়ায় এক রাতে কখনও কখনও চারটে টিপ হয়ে যায়। তার মতো বাকিরাও পুজোর কয়েকটা দিন এভাবেই সারা রাত ধরে দর্শনার্থীদের নিয়ে মন্ডপে ঘুরে বেড়ান।

আরেক টোটো চালক তপন দে জানান, দিনহাটার পুজোর মান গত কয়েক বছরে আমুল বদলে গেছে। শহরের একাধিক বিগ বাজেট পুজো কমিটিগুলি এখন চতুর্থী থেকেই মন্ডপ দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়। এরফলে টানা ছদিন পুজোর ভাড়া পাওয়া যায়। এছাড়া পুজোর মান ভালো হওয়ায় পার্শ্ববর্তী জেলার দর্শনার্থীরাও দিনহাটা মহকুমায় আসেন পুজো দেখতে, তবে এবছর শুনছি বড়ো পুজো হচ্ছে না সেভাবে, এরফলে কতটা ভাড়া পাবো তা বুঝতে পারছি না।

তপন বাবু আরও জানান, পুজোর এই কয়েকদিনের আয়ে অনেকটা উপকারে দেয়, ঋণ শোধ থেকে সংসারের চাহিদা পূরণ সবটাই হয় এই টাকায়। শুধু তিনিই নন মহকুমায় হাজারেরও বেশি চলা টোটো চালকরা এই দিনটির অপেক্ষায় থাকেন।

অন্যদিকে, কলেজ পড়ুয়া শ্রেয়া অধিকারীর কথায় পুজোতে টোটোতে করে ঘুরতে যাওয়া এক অন্যরকম অনুভূতি, তবে এবছর শহরে সেরকম বড়ো পুজো নেই তাই সেভাবে টোটেতে ঘোরা এবছর হবে না, বাড়ির কাছের পুজো মন্ডপেই সময় কাটাবো ভাবছি।