কয়ানদীতে নেই পাকাসেতু, ক্ষোভ দক্ষিণ পদমতির বাসিন্দাদের

241

হেলাপাকড়ি: বছরের পর বছর শুধু প্রতিশ্রুতিই মিলছে। কিন্তু কয়ানদীতে পাকাসেতু হয় না। তাই এলাকাবাসীর মনে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। সেকারণে বিধানসভা ভোটের মুখে ক্ষোভে ফুঁসছেন পদমতি-২ অঞ্চলের দক্ষিণ পদমতির বাসিন্দারা। বর্ষাকালে কয়ানদী ও দুটি নালা সহ তিনটি সাঁকো পেরিয়ে যাতায়াত করেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। বর্ষার পর নালা দুটির জল শুকিয়ে গেলেও কয়ানদীতে বারোমাসই জল থাকে। নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা বলতে বাঁশের সাঁকো। সেই সাঁকো পেরিয়ে হাট, বাজার, স্কুল, কলেজসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে যাতায়াত করেন এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দা।

পাকাসেতু না থাকায় বড় কোন যানবাহনও এলাকায় ঢোকানো যায় না। ফলে গর্ভবতী বা মুমুর্ষ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চরম সমস্যায় পড়তে হয়। কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য হাটে নিয়ে যেতেও সমস্যা হয়। তাই দীর্ঘদিন ধরেই কয়ানদীতে পাকাসেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।

- Advertisement -

তাদের বক্তব্য, পাকাসেতু পাওয়ার আসতেই ভোট দিয়ে এলাকায় প্রধান নির্বাচিত করেছেন তাঁরা। তারপরেও এলাকাবাসীর সেই আশা পূরণ হচ্ছে না। তাই এবারের বিধানসভা ভোট নিয়েও চিন্তাভাবনা করবেন তাঁরা।

কয়ানদীতে নেই পাকাসেতু, ক্ষোভ দক্ষিণ পদমতির বাসিন্দাদের| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India
ছবি- দক্ষিণ পদমতিতে কয়ানদীর উপর বাঁশের সাঁকো।

বাসিন্দা সত্য মন্ডল বলেন, ‘বারোমাস বাঁশের সাঁকোর দিয়ে নদী পারাপার হতে হয়। বর্ষাকালে জলের তোরে মাঝে মধ্যেই সেই সাঁকোও উধাও হয়ে যায়। তখন এলাকাবাসীদের দূর্ভোগের শেষ থাকে না। প্রত্যেক ভোটের আগে নেতারা এসে পাকা সেতু করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান। কিন্তু ভোট পেরোলে সেই প্রতিশ্রুতির কথা তারা ভুলে যান। জনপ্রতিনিধি সহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্তারাও এসে আশ্বাস দিয়ে গেছেন। কিন্তু এ পর্যন্ত সেতু তৈরির কোন নাম গন্ধই নেই।’

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা মজিন রায় বলেন, ‘বাম আমলেই এখানে পাকাসেতু হওয়ার কথা ছিল। আরএসপির বাচ্চামোহন রায় বিধায়ক থাকা কালীন সেতুর তৈরির জন্য বালি-পাথরও ফেলা হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কোন কারণে পরে আর কাজই শুরু হয়নি তখন। তারপরেও একেরপর এক প্রতিশ্রুতির বন্যা বয়ে গেছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এটি এলাকার মস্তবড় সমস্যা। অথচ এনিয়ে কেউ মাথাই ঘামাচ্ছেন না।’

পদমতি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান লপিকা রায় বলেন, ‘কয়ানদীতে পাকাসেতু হওয়া খুবই জরুরি। পাকাসেতু না থাকায় এলাকাবাসীকে দারুন দুর্ভোগ পোয়াতে হয়। এটি এলাকার দর্ঘদিনের সমস্যা। আমি নিজেও এই এলাকারই বাদিন্দা। অন্য বাসিন্দাদের সাথে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরাও সমস্যায় ভুক্তভুকি। এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার প্রধান লক্ষ্যই হল কয়ানদীর পাকাসেতু। তাই প্রধানের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে চেস্টাও চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এতবড় মাপের কাজ গ্রামপঞ্চায়েতের পক্ষে করা সম্ভব নয়। তাই গ্রামপঞ্চায়েতের তরফে পাকাসেতু তৈরির বিষয়ে উর্ধতন কতৃপক্ষের কাছে লিখিত ভাবে দাবি পাঠানো হয়েছে।’