বাঁধ না হওয়ায় ভেসে যেতে পারে ৫০টি বাড়ি, আতঙ্কে দিন কাটছে বাসিন্দাদের

100

গয়েরকাটা: আপাতভাবে শান্ত থাকলেও বিগত কয়েকবছর ধরে আংরাভাসা নদীর ভয়ঙ্কর রূপ চাক্ষুষ করছেন গয়েরকাটাবাসী। সেচ দপ্তরের উদ্যোগে ভুটানের হাতিনালার সঙ্গে এই নদীর সরাসরি সংযোগ স্থাপন হওয়ার পর থেকেই বর্ষাকালে ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে এই নদী। গত দু’বছরে গয়েরকাটা চা বাগানের প্রায় ২১টি শ্রমিক আবাস গ্রাস করেছে আংরাভাসা। নদীর তাণ্ডবে শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জ্যোতির্ময় পল্লী ও বিবেকানন্দ কলোনির অনেক বাড়ির অর্ধেক অংশ গতবারের প্রবল জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে ভেসে গিয়েছে। আগের দেওয়া বাঁধের অবস্থা একদমই শোচনীয় হওয়ায় নদীতে জল বাড়লেই বাড়ি ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বার বার বাঁধের দাবি জানিয়েও প্রশাসন শুধু আশ্বাস দিয়ে গেলেও নির্মাণ হচ্ছে না বাঁধের। যার ফলে চূড়ান্ত আতঙ্কেই রাত কাটাতে হচ্ছে তাদের। অবিলম্বে এই নদীর দু’পাশে প্রায় ৩০০ মিটারের বাঁধ নির্মাণ না করা হলে প্রায় ৫০টি বাড়ি ভেসে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সাঁকোয়াঝোরা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে গত বছর এই বাঁধ নির্মাণের জন্য বোল্ডার ফেলানো হলেও শেষ পর্যন্ত দপ্তরগত বাধ্যবাধকতার জেরে সেকাজ থেকে পিছিয়ে যায় গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেও।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা ফুলকুমারি দাস বলেন, ‘জীবনে আমার কেউ নেই। আছে শুধু সহায় সম্বল এক চিলতে জমি। গতবছর নদীর গ্রাসে সেই জমির বেশীর ভাগ অংশ চলে গিয়েছে। তারপর কয়েকবার প্রশাসনের লোক এসে শুধু ছবি তুলে নিয়ে গিয়েছে কিন্তু বাঁধ কেউ বানায় নি। খুব ভয়ে থাকি রাতের অন্ধকারে কখন যে নদী সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়।’ বানারহাট সেচ দপ্তরের আধিকারিক সুব্রত শুর বলেন, ‘গতবছর বর্ষায় আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি ও বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আবার বিষয়টি ওপরে জানাব। তিনি আরও বলেন, ‘গত দু’বছরে গয়েরকাটা চা বাগানের বিঘা লাইন ও টিন লাইনে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে বড় বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এখনও দুটো বাঁধের কাজ চলছে।’ রাজ্যের সেচ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন জানান, ‘আমি বাঁধের বিষয়টি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।’