ভোট আসে ভোট যায়, উন্নয়ন নেই পশ্চিম বাতাবাড়িতে

94

চালসা: এলাকার একপাশে চা বাগান, অন্যপাশে কুর্তি নদী। মাঝে প্রায় ৪-৫ হাজার লোকের বসবাস। মেটেলি ব্লকের বিধাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পশ্চিম বাতাবাড়ির ভৌগোলিক অবস্থান এইরকম। এলাকায় ছেলে মেয়েদের পড়াশুনার জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থাকলেও নেই কোনও উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র। স্বাভাবিকভাবেই সাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত ওই এলাকার জনগণ। স্বাস্থ্য পরিষেবা পেতে সাধারণ মানুষকে যেতে হয় কুর্তি নদী পেরিয়ে আর নয়তো প্রায় ৪-৫ কিলোমিটার ঘুরপথে কুর্তি সেতু হয়ে মাথাচুলকা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।

বর্ষায় কুর্তি নদীতে জল থাকায় সাধারণ মানুষকে ওই ঘুরপথেই যেতেই হয়। একমাত্র যাতায়াতের রাস্তারও বেহাল দশা। এলাকায় নেই বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা। সাধারণ মানুষকে কুয়োর জল পান করতে হয়। এলাকায় নেই কোনও স্বাস্থ্যকর্মী বা আশাকর্মী। জানা গিয়েছে, নদী, জঙ্গল, চা বাগান বেষ্টিত ওই এলাকার জনগণ পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা পাননা। বিশেষ করে সমস্যায় পড়তে হয় এলাকার গর্ভবতী মহিলাদের। তাঁদের ঘুরপথে নিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না। শিশুদের কোলে নিয়ে বর্ষায় কুর্তি নদীর হাটু জল পেরিয়ে শিশুদের যাবতীয় টিকা ও ওষুধ খাওয়ানোর জন্য নিয়ে যেতে হয় দূরবর্তী মাথাচুলকা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা আঞ্জু ওরাওঁ জানান, চারদিকে যেখানে স্বাস্থ্য পরিষেবা সহ রাস্তাঘাট, জলের উন্নতি হচ্ছে, সেখানে এই এলাকা পরিষেবা পাচ্ছে না। বেহাল রাস্তার জন্য টোটো, গাড়িও আসে না এলাকায়। ভোট আসে ভোট যায় কিন্তু এলাকার কোনও উন্নতি হয় না। ভোটের আগে এলাকায় রাজনৈতিক দলের নেতারা এসে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও ভোটের পর আর কারও দেখা পাওয়া যায়না বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। আর এক মহিলা সুবতী ওরাওঁ জানান, ভোট আসলে ভোট দিই। নেতারা আসেন, অনেক কিছু বলেন। ভোট পেরোলেই আর কারও দেখা পাওয়া যায় না। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। এলাকার অনুন্নয়নকে হাতিয়ার করে বিরোধীরা ভোট প্রচারে নামতে পারেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।