মোদি-মমতা কোনও ফারাক নেই, একে অপরের ভাইবোন: ওয়েইসি

268

সামসী: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে কোনও ফারাক নেই। তাঁরা দু’জন একে-অপরের ভাইবোন। মালতিপুরের জালালপুর হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত মিম প্রার্থী মতিউর রহমানের সমর্থনে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বৃহস্পতিবার এমনটাই বললেন মিম প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বাংলায় বিজেপিকে ডেকে নিয়ে এসেছেন। আরএসএসের সঙ্গে গোপন আঁতাত রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

ওয়েইসি জানান, সংখ্যালঘুদের জন্য এইরাজ্যে কংগ্রেস, বাম ও তৃণমূল কিছুই করেনি। এই তিন দলই সংখ্যালঘুদের সবদিক দিয়ে পিছিয়ে রেখেছে। রাজ্যে ২৭ শতাংশ মুসলিমদের বসবাস। অথচ সরকারি চাকরিতে সংখ্যানুপাতে খুবই কম। চাকরি ছাড়াও শিক্ষার দিক দিয়েও পিছিয়ে রয়েছে মুসলিম ঘরের ছেলেমেয়েরা। তাঁর অভিযোগ, মুসলিম ঘরের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ দিচ্ছেন না তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। সংখ্যালঘুরা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল কিছুই পাননি। তিনি জানান, মুসলিমরা ভিক্ষে নয়, নিজের হক আদায়ের জন্যই লড়ছেন এবং লড়বেন। ওয়েইসির মিম এগিয়ে চলতে চায়, পিছু হটবে না।

- Advertisement -

পাশাপাশি ওয়েইসির বক্তব্য, মালদা মুর্শিদাবাদে কাজের কোনও সুযোগ নেই। তাই মুসলিম ভাইয়েরা ভিন রাজ্যে শ্রমিকের কাজে যাচ্ছেন। পরিবার-পরিজন ছেড়ে সারাবছরই বাইরে পড়ে থাকছেন অর্থ উপার্জনের জন্য। মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে তাঁর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায়ই বলে থাকেন ওয়েইসি নাকি বিজেপির দালাল। বিজেপির হয়ে কাজ করছেন। ভোট কাটোয়া দল মিম। মিম যদি ভোট কাটোয়া পার্টি হয়, তাহলে গত লোকসভায় উত্তর মালদা লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি কিকরে জিতল? সেখানেতো মিম কোনও প্রার্থী দেয়নি। তিনি বলেন, ‘মৌসম নূরকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিএমসি দলই হারিয়েছিল। দিদির রাজ্যে দিন দিন দুর্নীতি বেড়ে চলেছে।’ দিদির ভাইপোরও কড়া সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে কংগ্রেস ও সিপিএম শেষ হয়ে গিয়েছে।

এদিন উপস্থিত নেতারা একযোগে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মিমের জেলা নেতা আমির হোসেন বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনের পূর্বে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা খাতায় ও কলমে থেকে গিয়েছে। একটিও বাস্তবায়িত হয়নি। সংখ্যালঘুদের উন্নয়ন যদি করে থাকেন তাহলে প্রকাশ্যে এসে বলুন না সাচার কমিটির রিপোর্ট কতটা বাস্তবায়ন করেছেন? আসলে উনি মুসলিমদের থেকে জনপ্রতিনিধি নেতা তৈরি করতে চান না। সংখ্যালঘুদের শুধু লেঠেল বাহিনী এবং ভোটার রূপে রেখে দিতে চান।’ মিমের মালতীপুরের প্রার্থীর বক্তব্য, বাংলায় বিজেপিকে আঙুল ধরে এনে বড় করে তুলেছে টিএমসি। মাননীয়ার ইচ্ছা ছিল সংখ্যালঘুদের বোকা বানিয়ে শুধু ভোট লুট করা। তার এই স্বপ্ন যে বেশিদিন টিকবে না তা তিনি বুঝেছেন। মোদিজি একদিকে যেমন দেশ বিক্রি করছেন ঠিক তেমনি বাংলাকে লুটতরাজে পরিপূর্ণ করেছেন দিদির বাহিনীরা। তৃণমূল ও বিজেপি একটি কয়েন এর এপিঠ-ওপিঠ। বাংলায় ঘোমটা টেনে এবং ইফতার পার্টি দিয়ে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বীজ বপন করেছে তৃণমূল। সংখ্যালঘু সমাজ এতদিন ধরে নেতৃত্বহীনতায় ভুগছিল। আজ তারা মিম এর মধ্যে নিজেদের ভবিষ্যত খুঁজে পেয়েছে। তিনি জিতলে মালতিপুরের বহু উন্নয়নমূলক কাজ করবেন বলেও জানান মিম প্রার্থী।

এদিন বিকেলে ব্যক্তিগত কপ্টারে করে চন্দ্রপাড়া ফুটবল ময়দানে নামেন মিম সুপ্রিমো। সেখান থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়কপথে জালালপুর এসে পৌঁছান। এদিন নির্বাচনি জনসভায় মালতিপুরের প্রার্থী মতিউর রহমান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিহারের মিমের দুই বিধায়ক আখতারুল ইমান ও আনজার নায়েইমি, মিমের রাজ্যের অবজারভার তথা হায়দরাবাদের প্রাক্তন মেয়র মজিদ হোসেন, মালদা জেলা অবজারভার সরফরাজ সিদ্দিকি সহ আরও অনেকে।