ফালাকাটায় এবার পুজো উদ্বোধনের মুখ নেই, হতাশ পুজো উদ্যোক্তারা

391
ফালাকাটায় একটি পুজোর উদ্বোধন করছেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সুভাষ রায়।

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: প্রায় এক বছর আগে ফালাকাটার বিধায়ক অনিল অধিকারি প্রয়াত হন। তারপর মৃত্যু হয় চঞ্চল অধিকারি, সন্তোষ বর্মন সহ অনেকের। একের পর এক শীর্ষ স্তরের জনপ্রতিনিধিদের মৃত্যুতে দুর্গাপুজোর পরিবেশে প্রভাব পড়েছে। ফালাকাটায় ওই জনপ্রতিনিধিরাই মূলত অধিকাংশ পুজোর উদ্বোধন করতেন। এবার পুজো উদ্বোধনের মুখ খুঁজে পাচ্ছে না কমিটিগুলি। তাই অনেক পুজো কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর্ব বাতিল করেছে। আবার কোনও কমিটি বিকল্পভাবে পুজোর উদ্বোধন করছে। প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে অধিকাংশ পুজো কমিটির সঙ্গে জড়িত আছেন তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয়স্তরের নেতাকর্মীরা। তাই দলের নতুন ব্লক সভাপতি সুভাষ রায় জনপ্রতিনিধিদের শূণ্যতা পূরণের চেষ্টা করছেন।

ফালাকাটা ব্লকে ছোট-বড় মিলিয়ে দেড়শোরও বেশি দুর্গাপুজো হয়। এরমধ্যে এবার প্রশাসন অনুমোদিত পুজোর সংখ্যা ৫৯টি। এই পুজো কমিটিগুলি সরকারি অনুদান হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে পেয়েছে। শহরে মূলত মুক্তিপাড়া, কলেজপাড়া, দেশবন্ধুপাড়া, মশলাপট্টি, মহাকালপাড়ার পুজো কিছুটা জাঁকজমকভাবে হচ্ছে। খোলামেলা মন্ডপেও সচেতনতামূলক থিম রয়েছে। এছাড়া গোপনগরে মহিলা পরিচালিত দুর্গাপুজোয় পাড়ার কয়েক হাজার মানুষ আনন্দে মেতে উঠেছেন। তবে অধিকাংশ পুজোই হয় গ্রামাঞ্চলে। কোথাও পঞ্চাশ, কোথাও একশো বছরের পুজোও রয়েছে। এই শহর ও সংলগ্ন পঞ্চায়েত এলাকার শতাধিক দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করতেন জনপ্রতিনিধিরা। পঞ্চমী, ষষ্ঠী ও সপ্তমী পর্যন্ত এই উদ্বোধন পর্ব চলত। কিন্তু এবার ফালাকাটার শীর্ষ জনপ্রতিনিধিরা নেই। বিধায়ক অনিল অধিকারি এক বছর আগেই মারা গিয়েছেন। সম্প্রতি ফালাকাটা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান চঞ্চল অধিকারি, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ তথা ফালাকাটার প্রতিনিধি সন্তোষ বর্মন, তৃণমূলের ব্লক কার্যনির্বাহী সভাপতি তথা শিক্ষক রণেশ রায় তালুকদার মারা যান।

- Advertisement -

মুক্তিপাড়া ক্লাবের সম্পাদক অভিজিৎ রায় বলেন, ‘ফালাকাটার জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে অনেকেই এবার নেই। তাঁদের অভাব টের পাওয়া যাচ্ছে। তাই এবার অন্যভাবে পুজোর উদ্বোধন করা হয়েছে।’ জনপ্রতিনিধিদের গ্রামে প্রভাব বেশি ছিল। রাইচেঙ্গা পুজো কমিটির প্রতিনিধি তাপস বর্মন বলেন, ‘আমাদের পুজোয় চঞ্চল অধিকারি ছিলেন অভিভাবক। এবার আমরা অভিভাবকহীন।’ পলাশবাড়ি ও মেজবিলের পুজো উদ্বোধনেও অনিল অধিকারি, সন্তোষ বর্মনরা আসতেন। এবার এখানকার কমিটিগুলি উদ্বোধন পর্ব বাতিল করেছে। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি সুভাষ রায় কিছুটা ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছেন। এদিন তাঁকে দিয়ে বেশ কিছু পুজোর উদ্বোধন করানো হয়। সুভাষবাবু বলেন, ‘পুজোর পরিবেশেও একটা অভাববোধ হচ্ছে। আমি যেখানেই আমন্ত্রণ পাচ্ছি, সেখানেই পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। এছাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দলীয় প্রধান, উপপ্রধানদের নিজ নিজ এলাকার পুজোয় থাকতে বলা হয়েছে।’