জামালদহ বাজারে নেই অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা, আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা

81

জামালদহ: কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র হল জামালদহ বাজার। বৃহৎ এলাকাজুড়েই বিস্তৃত রয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই গ্রামীণ বাজার। ক্রমশ ঘিঞ্জি হয়ে ওঠা সেই বাজারে বসেই বর্তমানে চলছে কেনাবেচা। স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে দোকানপাটের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত প্রাচীন এই জামালদহ বাজারে নেই কোনও আগুন নেভানোর পরিকাঠামো। কোথাও কোনও অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রও মজুত নেই। ফলে বাজারের মধ্যে কোথাও দুর্ঘটনাবশত আগুন ছড়িয়ে পড়লে তা কিভাবে আয়ত্তে আনা সম্ভব হবে, সেই চিন্তায় ব্যাপক আতঙ্কে ভুগছেন ব্যবসায়ীরা।

জামালদহ বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, গোটা বাজার জুড়েই রয়েছে কাঠ, পলিথিনের মতো নানান রকম দাহ্য পদার্থ। তাঁদের আশঙ্কা, বড় ধরণের আগুন লাগলে বর্তমান পরিস্থিতিতে আয়ত্তে আনা সম্ভব নয়। কারণ বাজারের কোথাও কোনও অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা নেই। এছাড়াও, এখান থেকে সবচেয়ে কাছের দমকল কেন্দ্রটি ন্যূনতম ৩০ কিলোমিটার দূরে মেখলিগঞ্জ শহরে অবস্থিত। খবর দিয়ে সেখান থেকে দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছোনো স্বাভাবিকভাবেই সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। ততক্ষণে আগুন বিরাট আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

- Advertisement -

জামালদহ বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক হোসেন আলি বলেন, ‘স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে জামালদহ বাজারে দোকানপাটের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। তার উপর বর্তমানে বাজারটি মারাত্মক ঘিঞ্জি হয়ে উঠেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কোনও বন্দোবস্ত নেই। প্রশাসনের কাছে জামালদহ বাজারে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাপনা মজবুত করার জন্য বার বার আর্জি জানানো হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।’

জামালদহ বাজারের ব্যবসায়ী মৃন্ময় ঘোষ, বীরেন্দ্র রায় ডাকুয়া প্রমুখ বলেন, ‘অগ্নি নির্বাপণ নিয়ে কেউই ভাবছে না। অনেকেই নিয়ম মেনে চলছেন না। ফলে যখন তখন বড় বিপদ ঘটে যেতে পারে।’ মেখলিগঞ্জ ব্লকের বিডিও অরুণ কুমার সামন্ত বলেন, ‘বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’