জলপাইগুড়িতে হাসপাতালে হিমোগ্লোবিন ইনজেকশন নেই

সৌরভ দেব, জলপাইগুড়ি : জলপাইগুড়ি জেলা ও সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে শরীরে হিমোগ্লোবিন বাড়ানোর ইনজেকশন নেই। ডাক্তারি পরিভাষায় যার নাম এরিথ্রোপয়টিন। জানা গিয়েছে, মূলত কিডনির সমস্যার কারণে যাঁরা নিয়মিত ডায়ালিসিস করান, তাঁদের হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে এই ইনজেকশন দেওয়া হয়। কিন্তু গত দুমাস ধরে হাসপাতালে এই ইনজেকশন না থাকায় রোগীদের তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেকেই বাইরে থেকে চড়া দামে এই ইনজেকশন কিনছেন। জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার ডাঃ রাহুল ভৌমিক বলেন, সম্প্রতি এরিথ্রোপয়েটিন ইনজেকশনের একটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। ইনজেকশনটি জেলা হাসপাতালে স্টোরে না থাকার কারণেই এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। ইনজেকশনের অর্ডার পাঠানো হয়েছে। আশা করছি এই সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

জেলা হাসপাতালের পাশাপাশি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে এখন ডায়ালিসিস বিভাগ রয়েছে। দুই হাসপাতাল মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ১২০ জন রোগীর ডায়ালিসিস হয়। কারও সপ্তাহে দুদিন, কারও আবার সপ্তাহে তিনদিন ডায়ালিসিস হয়। ডায়ালিসিসের পর রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কম থাকলে তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এই এরিথ্রোপয়েটিন ইনজেকশন দেওয়া হয়। এক সপ্তাহে একজন রোগী সর্বাধিক দুবার এই ইনজেকশন নিতে পারেন। সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার অঙ্গ হিসেবে রোগীরা এই ইনজেকশনটি বিনামূল্যে পেয়ে থাকেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, দুমাসের বেশি সময় ধরে এই ইনজেকশনের সরকারি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বেশ কয়েকবার জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরে ইনজেকশনটির অর্ডার পাঠালেও তা আসেনি। সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী একটি জেলা থেকে ইনজেকশনটি নিয়ে এসে সাময়িকভাবে কাজ চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই জেলাতেও পর্যপ্ত স্টক না থাকায় সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হয়নি।

- Advertisement -

এই পরিস্থিতিতে হাসপাতালের কাছে ইনজেকশন না থাকার কারণে রোগীদের সমস্যা বাড়ছে। শহরের কংগ্রেসপাড়ার অশোক মজুমদার সোমবার জলপাইগুড়ি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে ডায়ালিসিস করাতে আসেন। এদিনও তাঁকে এই ইনজেকশন দিতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে তিনি বাইরে থেকে ইনজেকশটি কিনতে বাধ্য হন। তাঁর স্ত্রী বনানী মজুমদার জানান, চলতি বছর মার্চ মাস থেকে ওর নিয়মিত ডায়ালিসিস হচ্ছে। এপ্রিল মাস থেকে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে এই ইনজেকশনটি দিতে হচ্ছে। কিন্তু গত দুমাস ধরে হাসপাতালের ভাঁড়ারে ইনজেকশনটি না থাকায় খুবই সমস্যা তৈরি হয়েছে। চার হাজার পাওয়ারের ইনজেকশনটি বাজার থেকে কিনতে হলে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা লাগছে। সপ্তাহে দুটি করে ইনজেকশন দিতে হয়। ফলে আমাদের অনেক টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।

সমস্যায় পড়েছেন শহরের বাসিন্দা দেবু চৌধুরীও। এদিন তিনিও বাইরে থেকে ইনজেকশনটি কিনেছেন। দেবুবাবু বলেন, হাসপাতালে সরকারি পরিষেবায় খরচ কম হওয়ায় বহু মানুষ এখানে ডায়ালিসিস করাতে আসেন। এঁদের মধ্যে অনেকেরই আর্থিক পরিস্থিতি ভালো নয়। তাঁদের পক্ষে প্রতিবার ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা খরচ করে এই ইনজেকশন নেওয়া খুবই সমস্যার বিষয়। আমরা চাই কর্তৃপক্ষ দ্রুত ইনজেকশনের ব্যবস্থা করুক। আমরা যাঁরা ডায়ালিসিস করাই, তাঁরা এই বিষয়টি লিখিতভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।